ফ্যাটি লিভার: সতর্ক না হলে লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি

ফ্যাটি লিভার বা লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমে যাওয়া আজকাল বেশ সাধারণ একটি সমস্যা। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটিকে বলা হয় মেটাবলিক ডিসফাংশন-অ্যাসোসিয়েটেড স্টিটোটিক লিভার ডিজ়িজ় (MAFLD)। যাপনের কিছু অভ্যাস যেমন অতিরিক্ত মেদযুক্ত খাবার, অল্প শারীরিক কার্যকলাপ, অতিরিক্ত মদ্যপান এবং স্থূলতা এই রোগের প্রকোপ বাড়াতে পারে।
ফ্যাটি লিভার হলে লিভারের স্বাভাবিক বিপাকক্রিয়া ব্যাহত হতে শুরু করে। দীর্ঘ সময় ধরে যদি রোগ নিয়ন্ত্রণে না থাকে, তবে লিভারের কোষে ধীরে ধীরে জ্বালা ও ক্ষতি হয়। এই অবস্থাকে বলা হয় লিভার ফাইব্রোসিস বা সিরোসিস, যা লিভারের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ফ্যাটি লিভার থাকলেও সবাইকে লিভার ক্যানসার হয় না। তবে দীর্ঘমেয়াদি সিরোসিস, অ্যালকোহল ব্যবহারের ইতিহাস এবং ডায়াবেটিস বা স্থূলতা থাকলে লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষ করে হেপাটোসেলুলার কার্সিনোমা (HCC) নামক লিভার ক্যানসারের সঙ্গে ফ্যাটি লিভারের সম্পর্ক প্রমাণিত।
সুতরাং, ফ্যাটি লিভার থাকলে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, লিভারের ফাংশন টেস্ট, আল্ট্রাসাউন্ড এবং জীবনধারার পরিবর্তন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অ্যালকোহল এড়ানো এবং ওজন নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ফ্যাটি লিভারের ক্ষতি কমানো সম্ভব।

ফ্যাটি লিভার থেকে লিভার ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি কেন তৈরি হয়?
চিকিৎসকের মতে, লিভারে অতিরিক্ত ফ্যাট জমা হতে শুরু করলে সেই অঙ্গে প্রদাহের সমস্যা দেখা দেয়। আর সেখান থেকেই নন-অ্যালকোহলিক স্টিয়াটোহেপাটাইটিস (এনএএসএইচ) হতে পারে। এই রোগকে যত বেশি উপেক্ষা করা হবে, ততই ক্যানসারে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে। চিকিৎসক বলছেন, ‘‘ফ্যাটি লিভার অবহেলা করতে থাকলে ১০০ জনের মধ্যে ১৫ জনের লিভার সিরোসিস হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। অর্থাৎ ধরা যাক, রোগী মদ্যপানও করেন না, হেপাটাইটিস সংক্রমণ নেই শরীরে, তা হলে ফ্যাটি লিভারের থেকে লিভার সিরোসিস হওয়ার ঝুঁকি থাকছে ১৫ শতাংশ।
আর যাঁরা সিরোসিসে আক্রান্ত হচ্ছেন, তাঁদের লিভারে পরবর্তী কালে ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে হয়ে যাচ্ছে ২০-৩০ শতাংশ। ফলে মদ কম খেলে সিরোসিস হবে না, এমন ভাবার কোনও কারণ নেই। তবে কেবল ফ্যাটি লিভার থেকেও সিরোসিস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যেটা আগেই বললাম। ফলে সেখান থেকে ক্যানসার হওয়া আশ্চর্যের নয়।’’ ফ্যাটি লিভারকে তাই কোনও ভাবেই অবহেলা করতে নিষেধ করছেন চিকিৎসক। সময় মতো নিজের চিকিৎসকের কথা বলা এবং তাঁর পরামর্শ নেওয়া দরকার ।
ফ্যাটি লিভার থেকে সরাসরি লিভার ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি না থাকলেও, যদি দীর্ঘমেয়াদি ফাইব্রোসিস বা সিরোসিস তৈরি হয়, তবে ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই আগেভাগে সচেতন হওয়া, নিয়মিত পরীক্ষা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারা অবলম্বন করা সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ।