বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • পুলিশি বাধায় আটকে এনসিপি, ‘মামলা না করে ফিরব না’ বললেন নাহিদ শাপলা চত্বরের মামলায় লতিফ সিদ্দিকী গ্রেপ্তার এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদন একপেশে ও পক্ষপাতদুষ্ট: চিফ প্রসিকিউটর শিল্পে গ্যাস সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত ভারত: হাইকমিশনার ক্যান্টিনের খাবার, পরিচ্ছন্নতা ও সেবার মান যাচাই করলেন পর্যটনমন্ত্রী পেপ্যাল সেবা চালুর পথ খুলল বাংলাদেশ ব্যাংক ব্রুনাইয়ে বাংলাদেশি কর্মীর সংখ্যা বাড়াতে ঢাকার আহ্বান লিটনের নেতৃত্ব, বিপিএল ও কোচিং স্টাফ—বিসিবি সভায় যেসব ইস্যু পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে দীনেশ ত্রিবেদী
  • ফল রাখার ভুল অভ্যাসে ক্ষতি হচ্ছে স্বাদ ও পুষ্টিতে

    ফল রাখার ভুল অভ্যাসে ক্ষতি হচ্ছে স্বাদ ও পুষ্টিতে
    ছবি- নতুন কাগজ
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    শীতকালীন শুষ্ক আবহাওয়া এবং হাওয়ার সঠিক চলাচলের অভাবে ফল দ্রুত পচে যায়। এতে অণুজীব সহজেই বাসা বাঁধতে পারে। তাই ফল সংরক্ষণের সময় সঠিক পদ্ধতি অবলম্বন করা জরুরি। ছোট ছোট ভুল এড়িয়ে চললেই ফল দীর্ঘ সময় ধরে তাজা রাখা সম্ভব। সংরক্ষণের জন্য পরিষ্কার পাত্র, ঠান্ডা ও শুষ্ক পরিবেশ এবং পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করলে পচন ও অণুজীবের সমস্যা কমে যায় এবং ফল সুস্থ ও খাবারযোগ্য থাকে।


    প্রাচ্য থেকে পাশ্চাত্য, যে কোনও জলবায়ুতেই ফলমূল, খাবারদাবার সংরক্ষণ ঝক্কির বিষয়। আবহাওয়ার বদলের সঙ্গে সঙ্গে খাবার ও আনাজে পচন ধরার ঝুঁকি থাকে। শীতের সময়ে কমলালেবু, আঙুরের মতো টকজাতীয় ফলের রমরমা। কিন্তু এই ধরনের ফল খুব দ্রুত পচেও যায়। খোসায় ছাতা পড়া থেকে শুরু করে রস শুকিয়ে যাওয়া বা বেশি পেকে গিয়ে নরম হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।

    শীতকালীন শুষ্ক আবহাওয়ায় ও হাওয়া চলাচলের অভাবে ফল দ্রুত পচে যায় এবং অণুজীব বাসা বাঁধতে থাকে। সে ক্ষেত্রে সঠিক উপায়ে ফল সংরক্ষণ করা জরুরি। অনেক বাড়িতেই ফ্রিজের ট্রে-তে নানা রকমের ফল ভরে রাখা হয়, অথবা ফ্রিজের বাইরে ঝুড়িতে একের পর এক ফল রেখে দেওয়া হয়। এর ফলেই ফলের মেয়াদ কমে যেতে থাকে। কারণ এমন অনেক ফল রয়েছে, যা ইথাইলিন গ্যাস নিঃসরণ করে। এই গ্যাস ফলের পচনকে ত্বরান্বিত করে। কলা, আপেল বা নাশপাতি সবচেয়ে বেশি গ্যাস নিঃসরণ করে। টকজাতীয় ফল যদিও ইথাইলিনের প্রধান উৎস নয়, কিন্তু এই গ্যাসের সংস্পর্শে এলে নষ্ট হয়ে যেতে থাকে।


    কিন্তু ফল সংরক্ষণ করার ক্ষেত্রে যদি ছোটখাটো পন্থা মেনে চলা যায়, তা হলে না ফ্রিজের প্রয়োজন, না উন্নত প্রযুক্তির। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পোস্টহার্ভেস্ট টেকনোলজি সেন্টার দেখিয়েছে, কী ভাবে ইথাইলিন গ্যাস টকজাতীয় ফলে প্রভাব ফেলে। রং পাল্টে যাওয়া, নরম হয়ে যাওয়া, ছত্রাক সংক্রমণ হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

    ভারত এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সাইট্রাস জাতীয় ফল মূলত ফ্রিজেই সংরক্ষণ করা হয়। ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকায় রান্নাঘরে ঝুড়িতে রেখে দেওয়া হয়। যে দেশ বা মহাদেশ হোক না কেন, ইথাইলিনের সংস্পর্শে এলে টকজাতীয় ফল নষ্ট হবেই। পাশাপাশি, কেমন ধরনের বাসনে ফল রাখা হচ্ছে, তার উপরেও ফলের পচনের গতি নির্ভর করে। বাটিতে ফল রেখে দিলে অনেক সময়ে চাপ পড়ে নীচের ফল নষ্ট হয়ে যায় আগে। আবার প্লাস্টিকের থলিতে রেখে দিলে দ্রুত আর্দ্রতা তৈরি হয়ে ছত্রাক সংক্রমণকে ত্বরান্বিত করে।

    কোন কোন ভুলে ফল দ্রুত পচে যায়?

    · বাজার থেকে ফল কিনে আনার পরই ময়লা দূর করার জন্য জলে ধুয়ে নেন অনেকে। এর ফলে আর্দ্রতা আটকে পড়ে ছত্রাকের সংক্রমণ ত্বরান্বিত হয়। খাওয়ার ঠিক আগে ফল ধুতে হবে।

    · একসঙ্গে অনেকগুলি ফল রাখা আছে, তার মধ্যে যদি একটিও নষ্ট গিয়ে থাকে, তা হলে সেটিকে সঙ্গে সঙ্গে আলাদা করে দিতে হবে। অনেকেই সেটি করেন না বলে পচে যাওয়া ফল থেকে ইথাইলিন বেরিয়ে বাকিগুলিকেও নষ্ট করে দেয়।

    তা হলে কোন কোন উপায়ে টকজাতীয় ফল সংরক্ষণ করা উচিত?

    · বুঝেশুনে পৃথক জায়গা করতে হবে একেকটি ফলের জন্য। কলা, আপেল বা নাশপাতির থেকে টকজাতীয় ফল দূরে রাখতে হবে। আলাদা বাটিতে বা থলেতে অথবা একেবারে অন্য ঘরে। যাতে ইথাইলিন গ্যাস সহজে সাইট্রাস জাতীয় ফলের সংস্পর্শে না আসতে পারে।

    · আর্দ্রতাকে নিয়ন্ত্রণ করা দরকার। তাই টক জাতীয় ফল সংরক্ষণ করার সময়ে এমন কাগজ বা কাপড় রাখতে হবে, যা আর্দ্রতা শোষণ করতে পারে। যেমন খবরের কাগজ বা পেপার টাওয়েল, বা মোটা টিস্যু বিছিয়ে তার উপর ফল রাখতে হবে। কিছু দিন পর পর সেই কাপড় বা কাগজ পাল্টে ফেলতে হবে।

    · হাওয়া চলাচলের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি। তাই বাটির বদলে ঝুড়ি বা মেশের থলে ব্যবহার করা উচিত ফল সংরক্ষণ করার ক্ষেত্রে। তবে অতিরিক্ত চাপ যেন না পড়ে নীচের ফলে।

    · ফ্রিজে রাখলে কাগজ বা কাপড় কিংবা টিস্যুর সাহায্য নিতে হবে, যাতে আর্দ্রতা বেড়ে গিয়ে ছত্রাকের সংক্রমণ না ঘটে।

    · অনেকে আবার সাইট্রাস জাতীয় ফলের উপর ভেজিটেবল অয়েল মাখিয়ে নেন। যাতে ফলের ভিতর থেকে দ্রুত আর্দ্রতা বেরিয়ে গিয়ে ফলকে শুকিয়ে না দেয়।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ