নিস্তব্ধ এভারকেয়ার

বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালের সামনে হাজার হাজার শোকাহত নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ সমবেত হন। প্রিয় নেত্রীকে হারানোর বেদনায় হাসপাতাল প্রাঙ্গণ এক নিস্তব্ধতা ও শূন্যতায় ভরে ওঠে।
দুপুরে দেখা যায়, প্রধান ফটকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, বিজিবি ও র্যাব সদস্যরা মোতায়েন রয়েছেন। অন্যান্য রোগীদের চলাচলে বিঘ্ন না ঘটাতে নেতাকর্মীদের নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে অবস্থান নিশ্চিত করা হচ্ছে।
আগামীকাল বুধবার সকাল ১১টায় বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে নেওয়া হবে। হাসপাতালে তাকে সরাসরি দেখার সুযোগ না থাকা সত্ত্বেও দূর-দূরান্ত থেকে সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীরা আসছেন। অশ্রুসিক্ত চোখে সবাই ‘আপসহীন’ নেত্রীর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে প্রার্থনা করছেন।
খালেদা জিয়া ১৯৪৬ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা ইস্কান্দার মজুমদার ও মা তৈয়বা মজুমদার। শৈশবে তিনি দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং পরবর্তীতে সুরেন্দ্রনাথ কলেজে পড়াশোনা করেন। ১৯৬০ সালে তিনি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
রাজনীতিতে পদার্পণ করেন ১৯৮১ সালের রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যার পর। ১৯৮২ সালের ২ জানুয়ারি বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হিসেবে যোগ দেন। ১৯৮৩ সালে ভাইস-চেয়ারম্যান হন এবং ১৯৮৪ সালে চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন।
আশির দশকে সামরিক স্বৈরশাসক এরশাদের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। এই দীর্ঘ আন্দোলনের কারণে তাকে সাতবার আটক ও গৃহবন্দী করা হয়।
১৯৯১ সালে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। তার নেতৃত্বে শিক্ষা খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসে, মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষা, উপবৃত্তি কর্মসূচি এবং সরকারি চাকরিতে বয়সসীমা বৃদ্ধি করা হয়।
১৯৯৬ সালে বিএনপি পরাজিত হলেও বৃহত্তম বিরোধী দলীয় নেত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালে চারদলীয় জোট গঠন করে নিরঙ্কুশ জয় লাভ করে আবারও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ২০০৫ সালে ফোর্বস ম্যাগাজিন বিশ্বের ক্ষমতাধর নারীর তালিকায় তাকে ২৯তম স্থানে রাখে।
খালেদা জিয়া সংসদীয় ইতিহাসে কোনো আসনে পরাজিত না হওয়ার অনন্য রেকর্ড রাখেন। ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি স্টেট সিনেট তাকে ‘গণতন্ত্রের যোদ্ধা’ উপাধিতে ভূষিত করে। ২০১৮ সালে বিতর্কিত মামলায় কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হন, তবে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সব মামলায় খালাস পান।