আজ দুপুরে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টায় তিনি জাতির উদ্দেশে এই ভাষণ প্রদান করবেন। ভাষণটি বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) এবং বাংলাদেশ বেতারে একযোগে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জাতীয় শোক কর্মসূচি ও রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুসারে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে। তার রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় অবদানের প্রতি সম্মান জানিয়ে জাতির সামনে দিকনির্দেশনামূলক বার্তা তুলে ধরবেন প্রধান উপদেষ্টা।
খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী, যিনি ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে—তিনবার দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তার মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সারাদেশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
প্রধান উপদেষ্টার ভাষণকে কেন্দ্র করে জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যমগুলো বিশেষ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে, যাতে দেশের সর্বস্তরের মানুষ শোকবার্তা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিক্রিয়া একযোগে শুনতে ও দেখতে পারেন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তিতে জাতির ঐক্য, স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান থাকতে পারে—এমনটাই ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মঙ্গলবার ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া এক পোস্টে জানানো হয়, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজ সকাল ৬টায়, ফজরের নামাজের ঠিক পরে ইন্তেকাল করেছেন। আমরা তার রূহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং সবার কাছে দোয়া চাইছি।’
মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। এ সময় হাসপাতালে তার বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ পরিবারের নিকটাত্মীয়রা উপস্থিত ছিলেন।
চলতি বছরের ২৩ নভেম্বর রাতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর আগে গত ১৫ অক্টোবরও তিনি একই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। সেদিন তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী জানান, তার বুকে সংক্রমণ ছিল এবং হৃদ্যন্ত্র ও ফুসফুস আক্রান্ত হয়েছিল।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে গণআন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দণ্ড মওকুফ করেন। সে সময় তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ৮ জানুয়ারি তিনি লন্ডন যান। চার মাস চিকিৎসা শেষে ৬ মে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে দেশে ফেরেন।