উপদেষ্টা পদ ছাড়ার পর প্রথম রাজনৈতিক বক্তব্য মাহফুজ আলমের

অন্তর্বর্তী সরকারের সদ্য সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান প্রকাশ করেছেন।
রোববার প্রকাশিত ওই পোস্টে তিনি সরাসরি কোনো দলীয় পরিচয় ঘোষণা না করলেও নিজস্ব রাজনৈতিক দর্শন, ভবিষ্যৎ পথচলা ও জনসম্পৃক্ততার কৌশল নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য তুলে ধরেছেন।
সূত্র বলছে, উপদেষ্টা পদ থেকে সরে যাওয়ার পর এটিই তার প্রথম আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক বার্তা, যেখানে তিনি জনমত, গণতান্ত্রিক সংস্কার, তরুণ নেতৃত্ব ও জাতীয় ঐক্যের মতো বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েছেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মাহফুজ আলমের এই পোস্ট ব্যক্তিগত রাজনৈতিক পরিচয় নির্মাণের নতুন অধ্যায় শুরু করতে পারে। বিশেষ করে তরুণ সমাজ ও সামাজিক প্ল্যাটফর্মভিত্তিক রাজনীতিতে তার ভূমিকা ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পোস্ট প্রকাশের পর থেকেই ফেসবুকে প্রতিক্রিয়া, শেয়ার ও মন্তব্যের মাধ্যমে এটি আলোচনার কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। অনেকেই এটিকে রাজনৈতিক মঞ্চে তার সম্ভাব্য সক্রিয় ভূমিকার পূর্বাভাস হিসেবে দেখছেন।
এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য না এলেও, মাহফুজ আলমের বক্তব্য জাতীয় রাজনীতির ভবিষ্যৎ গতিপথে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রোববার (২৮ ডিসেম্বর) রাতে দেওয়া পোস্টে তিনি লিখেছেন, নাগরিক কমিটি ও এনসিপি জুলাইয়ের সম্মুখসারির নেতৃত্বে সংগঠিত হয়েছিল। এ দুটি সংগঠনে আমার জুলাই সহযোদ্ধারা থাকায় গত দেড় বছর আমি চাহিবামাত্র তাদেরকে পরামর্শ, নির্দেশনা এবং পলিসিগত জায়গায় সহযোগিতা করেছি।
‘আমার অবস্থান স্পষ্ট। নতুন রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক বন্দোবস্ত, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক লড়াই, সামাজিক ফ্যাসিবাদ মোকাবেলা, রিকন্সিলিয়েশন, দায়-দরদের সমাজসহ অনেক কথাই আমি বলেছি। যেগুলো আমার জুলাই সহযোদ্ধারা উক্ত দুটি সংগঠন থেকে বারবার বলেছেন। কিন্তু, তারা এগুলো ধারণ করতেন? এনসিপিকে একটা বিগ জুলাই আম্ব্রেলা আকারে স্বতন্ত্র উপায়ে দাঁড় করানোর জন্য আমি সকল চেষ্টাই করেছি। কিন্তু, অনেক কারণেই সেটা সম্ভব হয়নি।’
মাহফুজ আলম আরও লিখেছেন, বিদ্যমান বাস্তবতায় আমার জুলাই সহযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান, স্নেহ এবং বন্ধুত্ব মুছে যাবে না। কিন্তু, আমি এ এনসিপির অংশ হচ্ছি না। আমাকে জামায়াত-এনসিপি জোট থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়নি, এটা সত্য নয়। কিন্তু ঢাকার কোন একটা আসনে জামায়াত-এনসিপি জোটের প্রার্থী হওয়ার চাইতে আমার লং স্টান্ডিং পজিশন ধরে রাখা অধিক গুরুত্বপূর্ণ।
‘ইতিহাসের এ চলতি পর্বে বাংলাদেশ একটা শীতল যুদ্ধে আছে। এ পর্বে কোনো পক্ষ না নিয়ে নিজেদের বক্তব্য ও নীতিতে অটল থাকাই শ্রেয়। বিকল্প তরুণ/ জুলাই শক্তির সম্ভাবনা এখনও শেষ হয়ে যায়নি। বরং, আমি গত দেড় বছরে যা বলেছি, যে নীতিতে বিশ্বাস রেখেছি, তা অব্যাহত রাখব। রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক সকল উপায়ে। If you care to join me, you are most welcome.’
তিনি লিখেছেন, নতুন রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক বন্দোবস্ত সম্ভব ও বাস্তব। বিকল্প ও মধ্যপন্থী তরুণ/ জুলাই শক্তির উত্থান অত্যাসন্ন।