১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে এলেন তারেক রহমান

দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসনের পর প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরে এলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই প্রত্যাবর্তন শুধুমাত্র নেতাকর্মীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটাননি, বরং দলের রাজনীতিতে নতুন পথ ও আগামীর সংকল্পের বার্তা জাগিয়েছে।
২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ওয়ান/ইলেভেন সরকারের সময়ে দেশের টালমাটাল রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে দেশ ছাড়েন তারেক রহমান। তখন তিনি বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন। এখন তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং দ্বিতীয় প্রধান নেতা। দেশে ফেরার পথে তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান ও মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকালে তারেক রহমানকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজ বাংলাদেশের আকাশসীমায় প্রবেশ করে। সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটে বিমানটি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে এবং কিছুক্ষণের যাত্রাবিরতির পর বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা তাকে স্বাগত জানান।
এর আগে বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে ঢাকা উদ্দেশে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে রওনা দিয়েছিলেন তিনি।
তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন উপলক্ষ্যে রাজধানীর পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকায় বিশাল গণসংবর্ধনা আয়োজন করেছে বিএনপি। প্রিয় নেতাকে স্বাগত জানাতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে নেতা-কর্মীরা ঢাকায় ঢল নামে। কুড়িল-বিশ্বরোড থেকে ৩০০ ফিটের সংবর্ধনা মঞ্চ পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে টাঙানো হয়েছে বর্ণিল ব্যানার ও ফেস্টুন।
সংবর্ধনার সময়ে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সতর্ক অবস্থানে ছিল। বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, গণসংবর্ধনায় শুধু তারেক রহমানই বক্তব্য দেবেন। সমাবেশ শেষে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে মা খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং তারপর গুলশান অ্যাভিনিউর ১৯৬ নম্বর বাসায় অবস্থান করবেন।