প্যারাসিমপ্যাথেটিক নার্ভ সক্রিয় হয় সঙ্গীর স্পর্শে

গবেষণায় দেখা গেছে, রোমান্টিক সঙ্গীর কোমল ও সহায়ক স্পর্শ মানুষের দেহ ও মনে গভীর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এই স্পর্শ শরীরের 'প্যারাসিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেম' সক্রিয় করে তোলে, যা দেহ ও মনকে গভীরভাবে শান্ত করতে সহায়তা করে এবং মানসিক চাপ (স্ট্রেস) দ্রুত হ্রাস করে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সঙ্গীর স্পর্শ কর্টিসল—যা স্ট্রেস হরমোন নামে পরিচিত—তার মাত্রা কমিয়ে দেয়। একই সাথে এটি অক্সিটোসিন হরমোনের পরিমাণ বৃদ্ধি করে, যা মানুষের মধ্যে বিশ্বাস, ভালোবাসা ও মানসিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে তোলে।
এই জৈবিক প্রক্রিয়ার ফলে হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ স্বাভাবিক হতে শুরু করে এবং দেহে চাপের লক্ষণগুলো দ্রুত হ্রাস পায়। সঙ্গীর উপস্থিতি এবং স্পর্শ মানসিক নিরাপত্তার অনুভূতি তৈরি করে, যা উদ্বেগ ও মানসিক টান কমাতে অত্যন্ত কার্যকর।
২০২০ সালে সায়েন্টিফিক রিপোর্টস (Scientific Reports)-এ প্রকাশিত একটি যুগান্তকারী গবেষণায় দেখা গেছে, দম্পতিরা মাত্র ১০ মিনিটের জন্য ম্যাসাজ বিনিময় করলেই তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ স্ট্রেস কমে যায়—এমনকি যখন কেবল একজন সঙ্গী ম্যাসাজ গ্রহণ করেন তখনও এই ইতিবাচক প্রভাব দেখা যায়।
গবেষকরা জোর দিয়ে বলেছেন, এই পুরো প্রতিক্রিয়াটি সম্পূর্ণ জৈবিক এবং এর সাথে যৌনতার কোনো সম্পর্ক নেই; এটি নিছক স্পর্শ, উপস্থিতি ও আন্তরিকতার শক্তির ফল। তাই প্রতিদিন মাত্র কয়েক মিনিটের সত্যিকারের সংযোগ বা স্পর্শই যেকোনো সম্পর্কের উষ্ণতা এবং মানসিক শান্তি ফিরিয়ে আনতে পারে।