রোদ, ভিটামিন D এবং সুখী মনের সম্পর্ক

আমাদের ব্যস্ত জীবনে অফিস, বাসা বা বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজের মধ্যে দিনের বেশিরভাগ সময় কেটে যায়, ফলে আমরা প্রায়ই রোদ থেকে দূরে থাকি। তবে প্রতিদিন মাত্র ১৫ মিনিট রোদে দাঁড়ানো শরীর ও মনের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সূর্যের ইউভি-বি রশ্মি ত্বকে লেগে ভিটামিন D তৈরি করতে সাহায্য করে। এই ভিটামিন শুধু হাড় ও দাঁতের জন্য নয়, মানসিক সুস্থতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিন D-এর ঘাটতি হলে মেজাজ খারাপ, দুশ্চিন্তা, এবং ডিপ্রেশনের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
রোদ আমাদের মস্তিষ্কে সেরোটোনিন (Serotonin) হরমোন বাড়াতে সাহায্য করে, যা মুড ভালো রাখে, মন হালকা করে এবং ডিপ্রেশন ও উদ্বেগ কমাতে ভূমিকা রাখে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন সামান্য হলেও রোদে থাকেন, তাদের মধ্যে ডিপ্রেশনের ঝুঁকি অন্যান্যদের তুলনায় অনেক কম। পর্যাপ্ত সূর্যালোক পাওয়া মানুষদের মধ্যে ডিপ্রেশনের ঝুঁকি প্রায় ২৭% পর্যন্ত কম দেখা গেছে।
গবেষকরা আরও জানিয়েছেন, প্রতিদিন কিছু সময় রোদে বা বাইরে হাঁটলে মুড ভালো থাকে, ঘুম ঠিক থাকে এবং মানসিক ভারসাম্য বজায় থাকে।
রোদে যাওয়ার সঠিক উপায়:
-
ভোর ১০টা থেকে বিকেল ৩টার মধ্যে ১০-১৫ মিনিট রোদে থাকা সবচেয়ে ভালো।
-
হাতে ও পায়ে বা গায়ের কিছু অংশে রোদ লাগানো উচিত।
-
সরাসরি রোদ লাগাতে হবে, জানালার মাধ্যমে আসা আলোতে পর্যাপ্ত ভিটামিন D তৈরি হয় না।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, কাজের ফাঁকে একটু বের হন, হাঁটুন এবং হাত-পায়ে রোদ লাগান। এতে স্বাভাবিকভাবেই মন সতেজ থাকবে এবং মেজাজ ভালো থাকবে।