প্রধান উপদেষ্টার কাছে গণভোটের দাবি জানাতে বিক্ষোভ

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে নভেম্বর মাসের মধ্যেই গণভোট আয়োজনসহ পাঁচ দফা দাবি উপস্থাপন করতে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামীসহ আটটি রাজনৈতিক দল। এই দাবিকে কেন্দ্র করে রাজধানীর পল্টন এলাকা রূপ নিয়েছে বিক্ষোভমুখর জনসমুদ্রে।
বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) দুপুর থেকে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, ন্যাপ, বাংলাদেশ লেবার পার্টি, গণফোরাম (একাংশ)সহ আটটি রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা ‘গণভোট চাই’, ‘গণভোট ছাড়া সমাধান নয়’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠেন। পুরো পল্টন এলাকা প্রকম্পিত হয়ে ওঠে তাদের স্লোগানে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসন, জনগণের মতামতের প্রতিফলন ও জাতীয় ঐক্যের পথ তৈরি করতেই তারা এই দাবিগুলো তুলেছেন।
এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়,
“গণভোটের মাধ্যমে জনগণকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। এটি না হলে দেশে শান্তি ও গণতন্ত্র টিকবে না। পাঁচ দফা দাবির মধ্যে প্রধান বিষয় গণভোট আয়োজন, রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি, প্রশাসনে নিরপেক্ষতা ও নির্বাচনী সংস্কার।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, একাধিক দলের এই যৌথ কর্মসূচি সরকারের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং গণভোট ইস্যুতে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন মোড় আনতে পারে।
এ দিকে জামায়াতে ইসলামীর পাশাপাশি একই দাবিতে পল্টনে জড়ো হয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি জাগপার নেতাকর্মীরা। একই সঙ্গে নিরাপত্তার স্বার্থে ইতোমধ্যে বেশ কিছু পুলিশ সদস্য এখানে অবস্থান নিয়েছেন।
এর আগে সকাল সাড়ে দশটার দিকে মিছিলের নেতৃত্ব দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তার নেতৃত্বে ঢাকা দক্ষিণের বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে মিছিলে অংশ নেন।
পাঁচ দফা দাবির মধ্যে আরও রয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে রাজনৈতিক হয়রানি ও গ্রেপ্তার বন্ধ, নির্বাচনে সব দলের সমান সুযোগ এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যক্রমে বাধাহীনতা নিশ্চিত করা।
সমাবেশে অংশ নেওয়া হারিস উদ্দিন বলেন, ‘জনগণের মতামত ছাড়া রাষ্ট্র পরিচালনা করা যায় না। আমরা শান্তিপূর্ণ উপায়ে জনগণের রায়ের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে চাই।’
এর আগে ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোটের দাবি জানিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারকে স্মারকলিপি দেওয়ার কথা জানান জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। গতকাল বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন।
স্মারকলিপি প্রদানকারী আটটি দল হলো– বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি)।