দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি অপরিবর্তিত, হাসপাতালে নতুন ৬৫১ রোগী

দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হলেও আক্রান্তের সংখ্যা কমছে না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৬৫১ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে সৌভাগ্যজনকভাবে এ সময়ে কোনও মৃত্যু ঘটেনি।
নতুন ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ৩৮৯ জন ঢাকা শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে এবং বাকি ২৬২ জন ঢাকার বাইরে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ৩,৯৪০ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন আছেন।
চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ লাখের বেশি, আর মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১,৬০০ ছাড়িয়েছে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আবহাওয়ার পরিবর্তন ও মশার বংশবিস্তার নিয়ন্ত্রণে ঘাটতির কারণে ডেঙ্গুর ঝুঁকি এখনও রয়ে গেছে। তারা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা ও মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার পরামর্শ দিয়েছেন।
শনিবার (১ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়াদের মধ্যে ঢাকা সিটি করপোরেশনের ২৩৭ জন এবং বাকিরা ঢাকা সিটির বাইরের।
চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭০ হাজার ৫১৩ জন। এর মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৬৭ হাজার ৪৫৯ জন। মারা গেছেন ২৭৮ জন।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান জানান, ডেঙ্গু এখন সারা বছরই হচ্ছে। বৃষ্টি শুরু হলে এটা বাড়ছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশা নিরোধক ওষুধ ব্যবহারের পাশাপাশি সব জায়গায় প্রচার চালাতে হবে। একইসঙ্গে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
কীটতত্ত্ববিদ ড. মনজুর চৌধুরী বলছেন, মশানিধনে শুধু জেল-জরিমানা আর জনসচেতনতা বাড়িয়ে কাজ হবে না। সঠিকভাবে জরিপ চালিয়ে দক্ষ জনবল দিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে দেশের ইতিহাসে ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন রোগী আক্রান্ত এবং ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়।