ত্বকের যত্নের জন্য সানস্ক্রিন, দাম কি বাধা?

ত্বকের যত্নে সানস্ক্রিনের গুরুত্বের কথা আমরা কমবেশি অনেকেই জানি। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ত্বককে সুরক্ষিত রাখতে সানস্ক্রিন কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।
নিয়মিত সানিস্ক্রন ব্যবহারের ফলে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে সৃষ্ট ত্বকের লালচে ভাব, ঘামাচি, চুলকানি, ত্বক পুড়ে যাওয়াসহ নানা সমস্যা থেকে মুক্ত থাকা যায়। এছাড়া নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার করলে ত্বকে তারুণ্যের ভাব বজায় থাকে।
এদিকে, জলবায়ু পরির্বতনের ফলে এখন শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা সব মৌসুমেই সানস্ক্রিনের ব্যবহার অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। ঘরের বাইরে তো বটেই, তীব্র গরমে ঘরের মধ্যে; বিশেষ করে রান্নার সময়ও সানস্ক্রিন ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
তবে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শের পাশাপাশি দিন দিন ত্বক সচেতন মানুষের মধ্যে সানস্ক্রিন ব্যবহারের প্রবণতা বাড়লেও এক্ষেত্রে বড় বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছে এর উচ্চমূল্য। দেশের বাজারে বিভিন্ন ধরনের সানস্ক্রিন পাওয়া যায়। যেগুলোর বেশিরভাগই বিদেশ থেকে আমদানি করা। এজন্য এসব পণ্যের দাম একটু বেশিই। যার ফলে প্রয়োজনীয়তা থাকার পরও অনেক মানুষ সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে পারছেন না।
বাংলাদেশের বাজারে ব্র্যান্ড, কার্যকারিতা এবং আকারের ওপর নির্ভর করে বিভিন্ন দামের সানস্ক্রিন পাওয়া যায়। ৫০ থেকে ৮০ গ্রামের এক একটি ভালো মানের সানস্ক্রিন দেশের বাজারে বিক্রি হচ্ছে আটশো থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকায়। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত কিছু সানস্ক্রিন কম দামে পাওয়া গেলেও মান নিয়ে সন্দেহ থাকায় সেগুলোতে ক্রেতাদের আগ্রহ কম।
এদিকে, ত্বকের সুরক্ষায় প্রতিদিনই সানস্ক্রিন ব্যবহর করতে বলছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই উচ্চমূল্যের প্রয়োজনীয় এই পণ্য অনেকের জন্যই হয়ে উঠেছে বিলাসিতা। এক্ষেত্রে, ভোক্তারা বলছেন- দেশে গুণগত মানসম্পন্ন সানস্ক্রিন উৎপাদন করা গেলে সেটি সাশ্রয়ী মূল্যে পাওয়া যাবে। তেমনটি হলে দেশের অসংখ্য মানুষ ত্বকের বিড়ম্বনা থেকে রক্ষা পাবেন।
উল্লেখ্য, আপনার ত্বকের ধরন এবং প্রয়োজনীয়তার ওপর ভিত্তি করে সানস্ক্রিন কিনতে হবে। সানস্ক্রিনে এসপিএফ বা সান প্রটেকটিভ ফ্যাক্টর কতটা সেটা দেখে বোঝা যায় কতটুকু অতিবেগুনি রশ্মির প্রবেশ ঠেকাতে পারে তার পরিমাণ। এসপিএফ যত বেশি হবে, সূর্যালোকের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বক ততবেশি সময় সুরক্ষিত রাখবে। আমাদের দেশের জন্য এসপিএফ অন্তত ৩০ থেকে ৫০ ব্যবহার করা উচিত। তবে যারা সরাসরি সূর্যালোক বা চুলার কাছে কাজ করে থাকেন তাদের জন্য এসপিএফ ৫০ সবচেয়ে ভালো। এসপিএফ-৩০ প্রায় শতকরা ৯৭% ক্ষতিকর রশ্মি প্রতিহত করে, এসপিএফ-৫০ প্রতিহত করে ৯৯% পর্যন্ত।
দৈএনকে/ জে. আ