বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • ভারত-চীনসহ রাশিয়ার জ্বালানি ক্রেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপে ট্রাম্প সরোয়ার আলমগীরের এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালনে বাধা নেই ‘খুব শিগগিরই ফিরতে পারব’, দেশে ফেরা নিয়ে সাকিবের আশা এনসিপির পদযাত্রায় হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবি ছাত্রশিবিরের আজ বিশ্ব বাঘ দিবস বাংলাদেশ পুলিশের সিআইডির নতুন প্রধান ব্যারিস্টার মোশাররফ হোছাইন উজবেকিস্তানকে উড়িয়ে কাভা ভলিবল চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে বাংলাদেশ সরকারি চাকরিতে নারীদের কোটা পুনর্বহালের দাবি মহিলা পরিষদের হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি বেড়ে ৮২৮ জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে শপিং মল ধস, আহত অর্ধশত; প্রত্যাহার সুনামি সতর্কতা
  • তোয়াকুলে ছালেহা ক্লিনিকে গর্ভবতী মায়ের রহস্যজনক মৃত্যু

    তোয়াকুলে ছালেহা ক্লিনিকে গর্ভবতী মায়ের রহস্যজনক মৃত্যু
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার তোয়াকুল বাজারে ছালেহা ক্লিনিক নামের একটি বেসরকারী ক্লিনিকে এক গর্ভবতী মায়ের রহস্য জনক মৃত্যু হয়েছে। 

    সোমবার (২০ অক্টোবর) সকাল ১১ টায় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ৬নং দক্ষিণ রণীখাই ইউনিয়নের দরাকুল গ্রামের নুরুজ্জামানের সহধর্মিণী সোনারা বেগমের রহস্যজনক মৃত্যু হয় ছালেহা ক্লিনিকে । জানা যায় সোনারা বেগম গোয়াইনঘাট উপজেলার রুস্তুমপুর ইউনিয়নের বড়ঘোসা গ্রামের মৃত জহির আলীর মেয়ে। 

    সোনারা বেগমের রহস্য জনক মৃত্যুর খবর পেয়ে সংবাদ সংগ্রহের জন্য দুপুর ১২ টার দিকে সরেজমিন ছালেহা ক্লিনিকে উপস্থিত হন গোয়াইনঘাট প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি ও দৈনিক জৈন্তাবার্তার গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রতিনিধি সৈয়দ হেলাল আহমদ বাদশা এবং গোয়াইনঘাট প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক ও দৈনিক উত্তরপূর্ব পত্রিকার গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি হারুন আহমদ। 

    এসময় তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ কালে অবৈধ ছালেহা ক্লিনিক পরিচালনার অন্যতম সিন্ডিকেট সদস্য তোয়াকুল ইউনিয়নের লাকি (উত্তর পশ্চিম পাড়া) গ্রামের আব্দুর রব শিকদারের ছেলে ফজলুর রহমান হৃদয় অতর্কিত ভাবে কর্তব্যরত গণমাধ্যম কর্মীদের উপর হামলা চালায়। 

    এসময় তাদের মারধর করে এবং দুটি মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে তাদের একটি কক্ষে আটক রাখে। এ খবরটি চাউর হয়ে সাংবাদিক নেতা পর্যন্ত পৌঁছালে সাংবাদিক নেতারা গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ তরিকুল ইসলাম তালুকদারকে অবগত করা হয়। গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ বিষয়টি জানার পর আটককৃত গণমাধ্যম কর্মীদের উদ্ধারে তাৎক্ষণিকভাবে সালুটিকর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র থেকে এসআই শাহাব উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ও এসআই তানজিলের নেতৃত্বে গোয়াইনঘাট থানা থেকে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে প্রেরণ করেন। পুলিশের দুটি টিম ঘটনাস্থলের কাছাকাছি পৌঁছামাত্র ফজলুর রহমান হৃদয় ওই সাংবাদিকদের ছেড়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। 

    অপর দিকে ছালেহা ক্লিনিকে মারা যাওয়া সোনারা বেগমের স্বামী নুরুজ্জামান জানান, রবিবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলের দিকে সোনারা বেগমের প্রসব বেদনা উঠে। স্থানীয়দের পরামর্শে বিকাল ৫ টার দিকে সোনারা বেগমকে ছালেহা ক্লিনিকে ভর্তি করেন। ভর্তি করে দেখতে পান এই ক্লিনিকে এমবিবিএস কোন ডাক্তার নেই। রাত ৯ টার দিকে প্রসব বেদনা আরো বেশি হলে তিনি ক্লিনিক কতৃপক্ষের নিকট বারবার অনুরোধ করেন তাকে রিলিজ দিতে। যাতে রোগীকে নিয়ে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করতে পারেন। কিন্তু কতৃপক্ষ সায় না দেওয়ায় শেষ পর্যন্ত সোমবার (২০ অক্টোবর) সকাল ১১ টায় এই ক্লিনিকেই সোনারা মৃত্যু বরন করেন। ময়নাতদন্তসহ বিভিন্ন জটিলতার কারণে তিনি ছালেহা ক্লিনিকের বিরুদ্ধে আইনানুগ পথে যেতে চাননি তিনি। তিনি আল্লাহ তায়ালার উপর বিচার ছেড়ে দিয়েছেন। 

    এ ব্যাপারে সালুটিকর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই শাহাব উদ্দিন জানান, তিনি সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন এবং মৃত সোনারা বেগমের স্বামী তার স্ত্রীর মৃত্যুকে স্বাভাবিক ভাবে মেনে নিয়েছেন। অপর দিকে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অবরুদ্ধ
     দুজন গণমাধ্যম কর্মীদের ছেড়ে পালিয়ে যায় তাদের উপর হামলাকারীরা। 

    গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ তরিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ছালেহা ক্লিনিকে একজন গর্ভবতী মায়ের মৃত্যু নিয়ে স্থানীয় দুজন সাংবাদিক সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে ক্লিনিক কতৃপক্ষের লোকজন তাদের সাথে অসদাচারন করে এবং তাদের অবরুদ্ধ রাখার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ভাবে পুলিশের দুটি টিম পাঠাই। এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ সহ গোয়াইনঘাটে কর্মরত সাংবাদিকরা অফিসার ইনচার্জের সাথে বসে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান। সে পথেই আমরা হাটছি। উল্লেখ্য যে, গোয়াইনঘাট উপজেলার তোয়াকুল বাজারে অবৈধভাবে
     চলছে ছালেহা ক্লিনিক সহ আরো দুটি ক্লিনিক। 
     
    সেবার নামে এ ক্লিনিক গুলোতে চলছে গলাকাটা অবৈধ রমরমা বাণিজ্য। প্রসূতি মায়েদের গর্ভের সন্তান নরমাল ডেলিভারির নামে  একাধিক শিশু ও মায়ের মৃত্যুর খবরও রয়েছে অনেক। স্থানীয় কিছু  নেতাদের ছত্রছায়ায় গড়া এ অবৈধ ক্লিনিকের মালিকের অমানবিক ব্যবহারের ফলে সাধারণ মানুষ টাকা খরচ করেও উপযুক্ত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, 

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কোন ধরনের অনুমোদন ছাড়াই এখানে কয়েকটি ক্লিনিক গড়ে তোলা হয়েছে। ক্লিনিক গুলোর কতৃপক্ষ  ইচ্ছামতো নিয়ম-কানুন তৈরি করে বছরের পর বছর ধরে এ রমরমা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। নেওয়া হচ্ছে ইচ্ছামাফিক ফি। হাতুড়ে টেকনিশিয়ানরা অনেক ক্ষেত্রেই দিচ্ছেন মনগড়া রিপোর্ট।

    একাধিক অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় কিছু  নেতারা ব্যক্তিগত সুবিধা নিয়ে তাদের ছত্রছায়ায় এ অনুমোদনবিহীন ক্লিনিক গুলোতে চালিয়ে যাচ্ছেন রমরমা ব্যবসা।
     


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন