বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • পুলিশি বাধায় আটকে এনসিপি, ‘মামলা না করে ফিরব না’ বললেন নাহিদ শাপলা চত্বরের মামলায় লতিফ সিদ্দিকী গ্রেপ্তার এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদন একপেশে ও পক্ষপাতদুষ্ট: চিফ প্রসিকিউটর শিল্পে গ্যাস সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত ভারত: হাইকমিশনার ক্যান্টিনের খাবার, পরিচ্ছন্নতা ও সেবার মান যাচাই করলেন পর্যটনমন্ত্রী পেপ্যাল সেবা চালুর পথ খুলল বাংলাদেশ ব্যাংক ব্রুনাইয়ে বাংলাদেশি কর্মীর সংখ্যা বাড়াতে ঢাকার আহ্বান লিটনের নেতৃত্ব, বিপিএল ও কোচিং স্টাফ—বিসিবি সভায় যেসব ইস্যু পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে দীনেশ ত্রিবেদী
  • ফল খাওয়ার সঠিক সময় কোনটা—খালি পেটে নাকি ভরা পেটে?

    ফল খাওয়ার সঠিক সময় কোনটা—খালি পেটে নাকি ভরা পেটে?
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    ‘খালি পেটে জল, ভরা পেটে ফল’—প্রবাদ কি সত্যি?

    বাংলা ভাষায় বহুল প্রচলিত প্রবাদ—‘খালি পেটে জল আর ভরা পেটে ফল’। অর্থাৎ, ফল খেতে হবে ভরা পেটে। তবে গবেষণা বলছে, এ প্রবাদ পুরোপুরি সঠিক নয়।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, খালি পেটে পানি খাওয়ার অসংখ্য উপকারিতা থাকলেও ফল খাওয়ার নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই। দিনের যেকোনো সময় ফল খাওয়া যেতে পারে, তবে কিছু সীমাবদ্ধতা মানা জরুরি।

    রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ফল না খাওয়ার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা। অনেক স্বাস্থ্যসচেতন মানুষ এখন নিয়মিত খাদ্যতালিকায় ফল ও ড্রাই ফ্রুটস রাখছেন। তবে মনে রাখা জরুরি—সকালে খালি পেটে সব ফল খাওয়া শরীরের জন্য সমানভাবে উপকারী নয়।

    চাইলে আমি এটি আরও সংক্ষিপ্ত করে অনলাইন নিউজ পোর্টালের উপযোগী একটি শিরোনাম ও লিড তৈরি করে দিতে পারি — আপনি কি সেটি চান?
    খালি পেটে ফল খেলে ভালো পুষ্টিগুণ পাওয়ার তথ্যটি প্রচলিত ধারণামাত্র। এর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। মূলত বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও ই-মেইলের মাধ্যমে তথ্যটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের একাডেমিক মেডিকেল সায়েন্সবিষয়ক ওয়েবসাইট এমডিলিংক্সও খালি পেটে ফল খেলে বেশি পুষ্টিগুণ পাওয়া যাওয়ার ধারণাটিকে প্রচলিত ধারণা হিসেবে উল্লেখ করেছে। এমডিলিংক্স জানায়, ফল খালি পেটে খাওয়া হোক বা ভরা পেটে, সেটির পুষ্টিগুণ একই থাকে। অন্যান্য খাবারের সঙ্গে ফল খাওয়া অথবা খাবারের পর ফল খাওয়া স্বাস্থ্যের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলে না। তবে এটি সত্য, খালি পেটে ফল খেলে সেটি দ্রুত হজম হয়ে যায়।

    আন্তর্জাতিক ফ্যাক্টচেকিং নেটওয়ার্ক (আইএফসিএন) স্বীকৃত যুক্তরাষ্ট্রের ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান স্নোপ্স জানায়, খালি পেটে ফল খাওয়ার ধারণার সূত্রপাত দেবাগি সানমুগাম নামের সিঙ্গাপুরের একজন নাগরিকের মাধ্যমে। তিনি পেশায় একজন রাঁধুনি এবং রন্ধনসম্পর্কীয় লেখক। ১৯৯৮ সালে তিনি দ্য কারেক্ট ওয়ে অব ইটিং ফ্রুটস নামে একটি লেখা প্রকাশ করেন। এই লেখার সূত্রেই ২০০১ সাল থেকে দাবিটি ইন্টারনেটে প্রচার হয়ে আসছে। তবে দেবাগি সানমুগাম ফল খাওয়ার সঠিক সময় খালি পেট উল্লেখ করলেও এ তথ্যের বিপরীতে কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা তিনি দেননি। 

    আবার খালি পেটে ফল খেলে ক্যানসার প্রতিরোধ সম্ভব, এমন দাবিও প্রচার হতে দেখা যায়। তবে বার্তা সংস্থা এএফপির ফ্যাক্টচেক বিভাগ জানায়, খালি পেটে ফল খাওয়ার সঙ্গে ক্যানসার প্রতিরোধের কোনো সম্পর্ক নেই। ইন্দোনেশিয়ার বান্দুং শহরের এডেলউইস হাসপাতালের  চিকিৎসক পুষ্টিবিশেষজ্ঞ এল. আরিফ ফিরিয়ান্দ্রি ইউলিয়াস এএফপিকে বলেন, খালি পেটে ফল খাওয়া ক্যানসার প্রতিরোধক—এই ধারণার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

    এমডিলিংক্স আরও জানায়, অন্যান্য খাবারের পরে বা সঙ্গে ফল খেলে ফলের পুষ্টিগুণ যথাযথভাবে না পাওয়ার তথ্যটিও প্রচলিত ধারণামাত্র।  প্রকৃতপক্ষে ফল যখনই খাওয়া হোক না কেন, মানুষের পাচনতন্ত্র ওই ফল হজম করা এবং তার থেকে পুষ্টি গ্রহণ করার ক্ষেত্রে একইভাবে কাজ করে। হেলথ লাইনও ধারণাটি সত্য নয় উল্লেখ করে জানায়, খাবার বা ফল যখনই গ্রহণ করা হোক না কেন, সেটি থেকে পুষ্টি আহরণের ক্ষেত্রে মানবদেহ একইভাবে কাজ করে। অর্থাৎ খাবারের আগে বা পরে ফল খেলে এর থেকে যথাযথ পুষ্টি পাওয়া যাবে না, এই ধারণা ভুল। 

    অনুরূপভাবে স্বাস্থ্যবিষয়ক ম্যাগাজিন মেডিকেল নিউজ টুডে রাতে শোয়ার আগে ফল খাওয়া থেকে বিরত থাকা প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল স্লিপ ফাউন্ডেশনের বরাত দিয়ে জানায়, ঘুমানোর আগে নির্দিষ্ট কিছু খাবার হজম প্রক্রিয়ার জন্য ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। তবে প্রতিষ্ঠানটি তাজা ফলমূল খাওয়ার পরামর্শ দেয়। ঘুমাতে যাওয়ার আগে কলা খাওয়া দেহে পটাশিয়াম সরবরাহ করে, যা রাতে ঘুমানোর সময় পায়ে টান পড়া প্রতিরোধ করে। একই সঙ্গে উচ্চমাত্রার ম্যাগনেশিয়াম সমৃদ্ধ ফল যেমন খেজুর, অ্যাপ্রিকট ইত্যাদি ভালো ঘুম ও শরীরের আরামে ভূমিকা রাখে। 

    সুতরাং,ফল খাওয়ার নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই। তাই সময়ভেদে ফল খেলে এর পুষ্টিগুণেও কোনো তারতম্য হয় না; বরং যেকোনো সময়েই ফল খাওয়া যায়।তবে খাওয়ার আগে অবশ্যই ফল ধুয়ে নিতে হবে।


    দৈএনকে/রে,আ
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ