বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
Natun Kagoj

জাপানের নাটকীয় জয়, আনচেলত্তির ব্রাজিলের প্রথম পরাজয়

জাপানের নাটকীয় জয়, আনচেলত্তির ব্রাজিলের প্রথম পরাজয়
ছবি: সংগৃহীত
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

ব্রাজিল জাতীয় দলের নতুন কোচ কার্লো আনচেলত্তি দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো পরাজয়ের মুখ দেখলেন। টোকিওতে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি ম্যাচে জাপানের বিপক্ষে ২-০ গোলে এগিয়ে থাকা অবস্থায় ব্রাজিল শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলে হেরে যায়।

ম্যাচের প্রথমার্ধে ব্রাজিলের আক্রমণ ঝাঁপিয়ে পড়ে কার্যকর ছিল। দুটি গোলে এগিয়ে যাওয়া ব্রাজিল মনে করছিল জয় নিশ্চিত। তবে দ্বিতীয়ার্ধে জাপান দৃঢ় মনোভাব দেখিয়ে ধীরে ধীরে সমতা ফিরিয়ে আনে। ৭৮ মিনিটে প্রথম সমতার গোল আসে, এরপর যোগ করা সময়ের এক দুর্দান্ত শট ব্রাজিলকে চমকে দেয় এবং ম্যাচের ব্যবধান ঘুরিয়ে দেয় জাপানের পক্ষে।

এই হারে আনচেলত্তির দলের উদ্বোধনী জয় মিস হলো, তবে কোচের মতে এটি দলের জন্য মূল্যবান শিক্ষা। তিনি বলেন, “খেলায় এমন পরিস্থিতি সবসময় আসে। আমরা ভালো খেলেছি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কিছু ভুল আমাদের পরাজয়ে নিয়ে গেছে। এই অভিজ্ঞতা থেকে আমরা আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরব।”

জাপানের জন্য এটি আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর ম্যাচ ছিল। তাদের কৌশল এবং ধৈর্য্য ম্যাচের শেষ মুহূর্তে ফলাফল পরিবর্তনে কার্যকর প্রমাণিত হলো।

প্রথমার্ধে ২-০ গোলে এগিয়েছিল ব্রাজিল; কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে স্বাগতিক জাপান তিন গোল দেয় সেলেসাওদের জালে। শেষ মুহূর্তে তুমুল চেষ্টার পরও আর কোনো গোল বের করতে পারেনি ব্রাজিলিয়ানরা। যার ফলে ৩-২ গোলের পরাজয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে হলো ভিনিসিয়ুস জুনিয়রদের।

গত সপ্তাহে সিউলে দক্ষিণ কোরিয়াকে ৫-০ গোলে হারিয়েছিল ব্রাজিল। টোকিওয় জাপানকেও বড় ব্যবধানে হারাবে সেলেসাওরা, এমনটাই ছিল ধারণা।

ম্যাচ শুরুর পর ব্রাজিলও প্রত্যাশা অনুযায়ী শুরু করেছিল। যদিও এই ম্যাচে বেশ কিছু পরিবর্তন আনেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। গোলরক্ষক বেনতো, ডিফেন্ডার এডার মিলিতাও, গ্যাব্রিয়েল মাগালেস, ডগলাস সান্তোস, মিডফিল্ডার হোয়াও গোমেজকে বসিয়ে রাখেন।

তবুও ম্যাচের প্রথমার্ধ ছিল পুরোপুরি ব্রাজিলের। ব্রুনো গুইমারেসের থ্রো বল থেকে ২৬তম মিনিটে পাওলো হেনরিক প্রথমে ব্রাজিলকে এগিয়ে দেন। ৩২তম মিনিটে দ্বিতীয় গোল করেন গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি। লুকাস পাকেতার কাছ থেকে বল পেয়ে গোলটি করেন তিনি।

দ্বিতীয়ার্ধে এসে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে জাপান। ৫২তম মিনিটে তাকুমি মিনামিনো একটি গোল পরিশোধ করে দেন। ৫৭তম মিনিটে এতে কয়েকটি পরিবর্তন আনেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। কিন্তু তার খেলোয়াড় পরিবর্তন কোনো কাজে আসেনি।

৬২তম মিনিটে দ্বিতীয় গোল করে খেলায় সমতায় ফেরে জাপান। এ গোলটি করেন কেইতো নাকামুরা। ৭১তম মিনিটে ব্রাজিলের জালে জাপানের জয়সূচক গোলটির বল জড়িয়ে দেন আয়াসি উয়েদা। ৭৫তম মিনিটে আরও কয়েকটি পরিবর্তন আনেন আনচেলত্তি। এস্তেভাওসহ কয়েকজকে নামানো হলেও গোলের খেলা ফুটবলে আর গোলেরই দেখা মেলেনি আর ব্রাজিলের।

অথচ, পরিসংখ্যান দেখলেই বোঝা যাবে, কতটা আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে ব্রাজিল। ম্যাচে ৭০ ভাগ বলের দখল ছিল ব্রাজিলের। ৩০ ভাগ মাত্র জাপানের। গোল লক্ষ্যে ব্রাজিল শট নিয়েছে ৬টি। জাপান নিয়েছে ৪টি। কিন্তু যেখানে জাপান তিনটিই কাজে লাগিয়েছে, সেখানে ব্রাজিল দিল ব্যর্থতার পরিচয়।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন