বাংলাদেশের জন্য দুঃস্বপ্নের সিরিজ, আফগানদের ইতিহাসগড়া জয়

আফগানিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের শেষ ওয়ানডেতেও ব্যর্থ বাংলাদেশ। এর মধ্য দিয়ে ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে সিরিজে আফগানিস্তানের কাছে হোয়াইটওয়াশ হলো টাইগাররা। বুধবার (১৫ অক্টোবর) কাবুলে অনুষ্ঠিত সিরিজের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশকে ৭ উইকেটে হারিয়ে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় নিশ্চিত করে আফগানরা।
ম্যাচের শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। টপ অর্ডারের ব্যাটাররা একে একে সাজঘরে ফেরায় দলটি বড় সংগ্রহ গড়ার সুযোগ হারায়। লিটন দাস ও নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাট থেকে আসে কিছুটা প্রতিরোধ, তবে আফগান স্পিনারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে বেশি দূর যেতে পারেননি কেউই। পুরো দল থামে মাত্র ১৮৪ রানে।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই দাপট দেখায় আফগানিস্তান। রহমানুল্লাহ গুরবাজ ও ইব্রাহিম জাদরান গড়েন শক্ত জুটি, যা ভেঙে দেওয়ার মতো বল খুঁজে পায়নি বাংলাদেশের বোলাররা। শেষ পর্যন্ত ৪১ ওভার খেলেই জয় তুলে নেয় স্বাগতিকরা।
সিরিজে আফগানিস্তানের স্পিনাররা ছিলেন বাংলাদেশের জন্য বড় আতঙ্ক। রশিদ খান, মুজিব উর রহমান ও নবী মিলিয়ে নেন বেশির ভাগ উইকেট, অন্যদিকে বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে তেমন কার্যকর কেউ ছিলেন না।
এই হারে ২০১৫ সালের পর প্রথমবার কোনো দলের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হলো বাংলাদেশ। আফগানিস্তানের বিপক্ষে এর আগে এমন পরাজয়ের রেকর্ড ছিল না।
সিরিজ শেষে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, “আমরা সব বিভাগেই ব্যর্থ হয়েছি। টপ অর্ডার রান করতে পারেনি, ফিল্ডিংয়ে ভুল ছিল, বোলাররাও ধারাবাহিক ছিল না। এই হার আমাদের জন্য বড় শিক্ষা।”
অন্যদিকে আফগান অধিনায়ক গুরবাজ বলেন, “বাংলাদেশের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে হোয়াইটওয়াশ আমাদের দলের জন্য ঐতিহাসিক মুহূর্ত। সবাই মিলে দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলেছি।”
এভাবে আফগানিস্তান প্রথমবারের মতো ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ করে ইতিহাস গড়ল, আর বাংলাদেশের জন্য এটি এক দুঃসহ অধ্যায় হয়ে রইল।
তৃতীয় ওয়ানডেতে সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ ২৭.১ ওভারে ৯৩/১০ (রানা ২*; নাঈম ৭, শান্ত ৩, হৃদয় ৭, সাইফ ৪৩, মিরাজ ৬, শামীম ০, নুরুল ২, তানভীর ২, রিশাদ ৪, হাসান ৯)
ফল: ২০০ রানে জয়ী আফগানিস্তান।
ম্যাচসেরা: বিলাল সামি, সিরিজ সেরা: ইব্রাহিম জাদরান
আফগানিস্তান ৫০ ওভারে ২৯৩/৯ (বিলাল ০*, নবী ৬২*; গুরবাজ ৪২, অটল ২৯, শহীদী ২, ইব্রাহিম ৯৫, আলিখিল ২, ওমরজাই ২০, রশিদ ৮, খারোটে ১০, গজনফর ০)