ট্রায়ন-ডি ক্লার্কের অসাধারণ পারফরম্যান্সে বাংলাদেশের স্বপ্নভঙ্গ

বিশাখাপত্তনমে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাংলাদেশের জয় প্রায় নিশ্চিত মনে হচ্ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে ক্লোয়ি ট্রায়ন এবং নাদিনে ডি ক্লার্কের অসাধারণ পারফরম্যান্স সেই স্বপ্নকে ভেঙে দেয়। ২৩২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত মাত্র ৩ উইকেটে হার এলো। প্রোটিয়া নারীদের হাতে তখন মাত্র ৩ বল ছিল, যা তাদের কাছ থেকে জয় নিশ্চিত করেছিল।
২৩৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকা শুরুতে বিপদে পড়ে। প্রথমেই তারা ৬৪ রানে ৪ উইকেট এবং ৭৮ রানে ৫ উইকেট হারায়। এমন পরিস্থিতিতে মনে হচ্ছিল বাংলাদেশ জয় নিশ্চিত করবে। কিন্তু মারিজানে ক্যাপ, ক্লোয়ি ট্রায়ন ও নাদিনে ডি ক্লার্কের অসাধারণ পারফরম্যান্স খেলার ভাগ্য ঘুরিয়ে দেয়।
ভারতের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে দ্রুত ৮৪ রান করে দলকে জেতানোর নৈপুণ্য দেখিয়েছিলেন ডি ক্লার্ক; আজও তিনি ব্যাটে-বলে দলকে জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করা বাংলাদেশ শুরু করে সাবধানভাবে। অধিনায়ক নিগার সুলতানার ৩২ রান, স্বর্ণা আখতারের ঝড়ো ৫১ ও শারমিন আক্তারের ৫০ রানে দল ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ২৩২ রান সংগ্রহ করে। স্বর্ণার ইনিংসটি ছিল বিশেষ—মাত্র ৩৪ বলে তার অর্ধশতক বাংলাদেশ নারী ওয়ানডের ইতিহাসে দ্রুততম। শেষদিকে রিতু মনি ১৯ রানে দলকে ২৩২ রানে পৌঁছে দেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিংয়ে ননকুলুলেকো মালাবা ২ উইকেট নেন, মারিজানে ক্যাপ মাত্র ৪২ রান দিয়ে নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেন, আর নাদিনে ডি ক্লার্ক ১ উইকেট নেন।
২৩৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকা বিপদে পড়ে। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা তাজমিন ব্রিটস পরপর দ্বিতীয় ম্যাচে শূন্য রানে আউট হন। ৬ষ্ঠ উইকেটে খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেন ক্লোয়ি ট্রায়ন (৬২) ও মারিজানে ক্যাপ (৫৬)। গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলে তারা দলকে জয়ের সম্ভাবনায় রাখেন।
শেষে রোমাঞ্চকর মুহূর্ত আসে, যখন শেষ ওভারে ৮ রান প্রয়োজন। ডি ক্লার্ক স্বর্না আখতারের ফেলা সহজ ক্যাচ ধরে দলের ভাগ্য নিজের হাতে নেন এবং এক চার ও এক ছক্কায় তিন বলেই দক্ষিণ আফ্রিকাকে জয় এনে দেন।
বাংলাদেশের বোলিংয়ে নাহিদা আক্তার ৪৪ রানে ২ উইকেট নেন, তবে কিছু ফিল্ডিং ভুলের কারণে টাইগ্রেসরা হারের মুখোমুখি হয়।