দারুণ জয়ের পরও এমএলএস শিরোপা হাতছাড়া মেসিদের

মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) টানা দুই ম্যাচে জয়হীন থাকার পর অবশেষে জয়ের দেখা পেল ইন্টার মায়ামি। ফ্লোরিডার ক্লাবটি নিউ ইংল্যান্ড রেভোলিউশনকে বড় ব্যবধানে হারিয়েছে আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসির দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে। ম্যাচে মেসি করেছেন হ্যাটট্রিক অ্যাসিস্ট, যা দ্য হেরন্সদের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
রোববার (৫ অক্টোবর) ঘরের মাঠ চেজ স্টেডিয়ামে নিউ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মায়ামির জয় ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে। এদিন মায়ামির হয়ে জোড়া গোল করেছেন তাদেও আয়েন্দে ও জর্দি আলবা। গোল না পেলেও তিনটি অ্যাসিস্ট করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন মেসি।
তবে বড় ব্যবধানে জিতলেও হতাশা নিয়ে মাঠ ছেড়েছে মায়ামি। একই দিন অন্য ম্যাচে নিউইয়র্ক সিটিকে ১-০ গোলে হারিয়ে সাপোর্টার্স শিল্ড জিতে নিয়েছে ফিলাডেলফিয়া। মেজর লিগ সকারে সর্বোচ্চ পয়েন্ট পাওয়া দলকে সাপোর্টার্স শিল্ড দেওয়া হয়। গত বছর এই পুরস্কার জিতেছিল মায়ামি।
টরন্টোর বিপক্ষে ১-১ সমতার পর শিকাগো ফায়ারের বিপক্ষে ৫-৩ ব্যবধানে হারে মায়ামির শিরোপা হাতছাড়া হওয়াটা প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায়। শিল্ড জেতার জন্য নিজেদের শেষ দুই ম্যাচের একটি জিতলেই চলত ফিলাডেলফিয়ার। তবে অপেক্ষা না করে আজই সেই জয় নিশ্চিত করেছে দলটি।
এ জয়ের পর শীর্ষে থাকা ফিলাডেলফিয়ার পয়েন্ট ৩৩ ম্যাচে ৬৬। ৩ নম্বরে থাকা মায়ামির পয়েন্ট ৩২ ম্যাচে ৫৯। এখন শেষ দুই ম্যাচে জিতলেও ফিলাডেলফিয়াকে ছুঁতে পারবে না মায়ামি। অন্যদিকে ৩৩ ম্যাচে ৬২ পয়েন্ট নিয়ে ২ নম্বরে আছে সিনসিনাটি।
এদিন মায়ামির একাদশে তিনটি পরিবর্তন আনেন কোচ হাভিয়ের মাশচেরানো, যা দলের জন্য টার্নিং পয়েন্ট হয়ে দাঁড়ায়। কয়েকটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হওয়ার পরও প্রথমার্ধেই দলকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন আয়েন্দে ও আলবা। দুটি গোলেই অবদান রাখেন মেসি।
৩২তম মিনিটে চোখ ধাঁধানো এক ‘নো-লুক’ থ্রু পাসে তাদেও আলেন্দেকে খুঁজে নেন মেসি, আর আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের জোরালো শটে ইউএসএ গোলরক্ষক ম্যাট টার্নারকে পরাস্ত করেন। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে ছয় গজ দূরত্বে পাস দেন আলবাকে। বাকিটা সেরে নেন স্প্যানিশ ডিফেন্ডার আলবা।
তবে দ্বিতীয়ার্ধে ৫৯তম মিনিটে কিছুটা ম্যাচে ফেরে নিউ ইংল্যান্ড। নতুন সাইনিং দোর তুরগেমান দুর্দান্ত এক দূরপাল্লার শটে গোল করেন। রদ্রিগো দে পল ও সের্হিও বুসকেতসের ঢিলেমির সুযোগ নিয়ে ফালকনকেও কাটিয়ে দুর্দান্ত গোলটি করেন তিনি।
তবে পরের মিনিটেই তাদের হতাশ করেন আয়েন্দে। এবারও অ্যাসিস্টের ভূমিকায় মেসি। প্রায় মাঝমাঠ থেকে আর্জেন্টাইন তারকার ক্রস অফ সাইড ফাঁদ এড়িয়ে বক্সের সামনে দখলে নেন আয়েন্দে। এরপর কিছুটা এগিয়ে গিয়ে জড়ান জালে। গোলটি কার্যত ম্যাচ শেষ করে দেয়।
শেষ দিকে বাজে ডিফেন্সিংয়ে আরেক গোল হজম করে রেভোলিউশন। তেলাসকো সেগোভিয়া দুইজনকে কাটিয়ে বল দেন আলবার কাছে, তিনি ঠান্ডা মাথায় গোল করে নিজের দ্বিতীয়টি পূর্ণ করেন। শেষ পর্যন্ত ব্যবধান ধরে রেখে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মায়ামি।
চলতি মৌসুমে মেসির গোলে অবদান দাঁড়াল ৪১-এ। সাপোর্টার্স শিল্ড হাতছাড়া করলেও মায়ামির সামনে এখনো খেলার অনেক কিছু বাকি। ইস্ট কনফারেন্সে প্লে-অফে ঘরের মাঠের সুবিধা পেতে লড়ছে তারা। জয়টি তাদের কনফারেন্সে তৃতীয় স্থানে তুলেছে, তাও আবার একটি ম্যাচ হাতে রেখেই।