অ্যানথ্রাক্সের সতর্কতা: কীভাবে ছড়ায় এবং প্রতিরোধের উপায়

রংপুরের পীরগাছার পর মিঠাপুকুর ও কাউনিয়া উপজেলায় অ্যানথ্রাক্স উপসর্গযুক্ত রোগী শনাক্ত করা গেছে। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) জানিয়েছে, পীরগাছার আটজন রোগীকে অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।
অ্যানথ্রাক্স মূলত দুই ধরনের হয়ে থাকে – এক ধরনের পরিপাকতন্ত্রে প্রভাব ফেলে, আর অন্য ধরনের শরীরের বাইরের অংশে সংক্রমণ ঘটায়।
পরিপাকতন্ত্রে সংক্রমণ:
এই ধরনের অ্যানথ্রাক্সে হালকা জ্বর, মাংসপেশীতে ব্যথা ও গলাব্যথা দেখা দিতে পারে।
শরীরের বাইরের অংশে সংক্রমণ:
বাংলাদেশে দেখা অ্যানথ্রাক্স সাধারণত এই ধরনেই হয়। এতে শরীরের বিভিন্ন অংশে ফোঁড়া বা ফুসকুড়ি দেখা যায়।
কিভাবে মানুষের মধ্যে ছড়ায়:
অ্যানথ্রাক্স সাধারণত গবাদি পশুর মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ছড়ায়। গরু, ছাগল ও মহিষের মধ্যে প্রথমে অ্যানথ্রাক্স দেখা যায়। আক্রান্ত পশুর মাংস কাটার বা জবাই করার সময় মানুষের শরীরে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। বিশেষত, যদি মানুষের ত্বকে ক্ষত থাকে, তবে জীবাণু প্রবেশের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
আইইডিসিআরের পরিচালক মেহেরজাদী সাবরিনা ফ্লোরা বলেন, “আমাদের দেশে অ্যানথ্রাক্স মূলত কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকে। আক্রান্ত পশুর মাংস কাটাকাটির সময় মানুষের সংস্পর্শে আসার কারণে সংক্রমণ ঘটে। তবে মানুষের মধ্যে মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ হয় না।”
সতর্কতার টিপস:
অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন পশুর মাংস কেটে বা রান্না করার সময় অবশ্যই প্যাজমেন্ট ব্যবহার করুন।
ক্ষত বা ফোস্কা থাকলে সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন।
নিশ্চিত না হলে পশুর মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
সতর্কতা এবং সচেতনতা অ্যানথ্রাক্স থেকে রক্ষা পেতে গুরুত্বপূর্ণ।