আমিষ নাকি নিরামিষ, কোনটি বেশি স্বাস্থ্যকর?

মানুষের খাদ্যাভ্যাসের মধ্যে প্রোটিন বা আমিষ ও নিরামিষ—কোনটি বেশি স্বাস্থ্যকর-এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উভয়েরই আলাদা গুণাগুণ আছে, তবে সঠিক পরিমাণ ও ভারসাম্য বজায় রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আমিষের স্বাস্থ্য সুবিধা- অসুবিধা
আমিষ, যেমন মাছ, মাংস, ডিম বা দুধ, উচ্চমানের প্রোটিন ও গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন এবং খনিজ উপাদান সরবরাহ করে। এতে অঙ্গপ্রত্যঙ্গের বৃদ্ধিতে সাহায্য, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি ও মাসল তৈরি হয়। তবে অতিরিক্ত চর্বি যুক্ত মাংস বেশি খেলে হার্ট, কোলেস্টেরল ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
নিরামিষের স্বাস্থ্য সুবিধা- অসুবিধা
নিরামিষ খাদ্য, যেমন শাক-সবজি, ফল, ডাল, বাদাম ও গ্রেইনস, ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিনের সমৃদ্ধ উৎস। এটি হজমে সহায়তা করে, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং দীর্ঘমেয়াদি হৃদরোগ ও ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। তবে শুধুমাত্র নিরামিষ খাদ্য গ্রহণ করলে কিছু নির্দিষ্ট ভিটামিন ও প্রোটিনের অভাব হতে পারে।
ডায়েটিশিয়ানরা বলছেন, “স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস মানে শুধু আমিষ বা নিরামিষ নয়, উভয়ের সঠিক সমন্বয়। সপ্তাহে কয়েকদিন মাছ বা দুধজাত খাবার এবং বাকি দিনে শাক-সবজি ও বাদামের সমৃদ্ধ খাবার খেলে শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি দেওয়া সম্ভব।”
আমিষ ও নিরামিষ—উভয়ই স্বাস্থ্যকর হতে পারে যদি সঠিক পরিমাণে এবং ভারসাম্যপূর্ণভাবে গ্রহণ করা হয়। অতিরিক্ত একপাক্ষিক খাদ্যাভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে।