এশিয়া কাপ ফাইনালে ভারত-পাকিস্তানের ‘হাই ভোল্টেজ’ ম্যাচ আজ

এশিয়া কাপের ইতিহাসে রচিত হতে যাচ্ছে নতুন অধ্যায়। দীর্ঘ ৪১ বছরের প্রতীক্ষার পর আজ প্রথমবারের মতো ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ভারত ও পাকিস্তান। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দলের এই মহারণ বসবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে আটটায় শুরু হবে এই লড়াই, যা দেখতে মুখিয়ে আছে কোটি কোটি ক্রিকেটপ্রেমী।
এশিয়ান ক্রিকেটের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে দুই দলের সমীকরণ সমান তালে। একদিকে ব্যাটিং-বোলিংয়ের দাপটে আত্মবিশ্বাসী ভারত, অন্যদিকে ধারাবাহিকতায় উজ্জীবিত পাকিস্তান। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই ম্যাচে টানটান উত্তেজনার পাশাপাশি থাকবে আবেগ আর ঐতিহাসিক প্রতিশোধের রং।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আজকের ফাইনাল শুধু ট্রফি নির্ধারণ করবে না, বরং দক্ষিণ এশীয় ক্রিকেটের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। মাঠে গড়াবে অগ্নিপরীক্ষা, আর স্টেডিয়ামের বাইরেও তৈরি হবে উৎসবের আবহ।
ভারত এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে অপরাজিত দল। পাকিস্তান ফাইনালে এসেছে অনেক উত্থান-পতনকে পাশ কাটিয়ে। এবারের এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টিতে দুটি ম্যাচ হেরেছে পাকিস্তান, দুটিই ভারতের বিপক্ষে। একবার গ্রুপপর্বে, একবার সুপার ফোরে। এবার ফাইনালে পাকিস্তানের প্রতিশোধ নেয়ার শেষ সুযোগ।
পাকিস্তানের সামনে সবচেয়ে বড় বাধা-ভারতীয় ওপেনার অভিষেক শর্মা। পুরো টুর্নামেন্টে ভারতের ব্যাটিংকে দানবীয় বানিয়েছেন তিনিই। মিডল অর্ডার ততটা ভয় জাগানিয়া ছিল না।
ফলে অভিষেককে দ্রুত ফেরাতে পারলে পাকিস্তানের বড় দুশ্চিন্তা কেটে যাবে। যদিও তাদের মূল দুশ্চিন্তা নিজেদের ব্যাটিং নিয়েই। পুরো টুর্নামেন্টেই তাদের বোলাররা ম্যাচ জিতিয়েছে। ব্যাটিং ছিল হতাশাজনক। এমনকি বাংলাদেশকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠা ম্যাচেও পাকিস্তান মাত্র ১৩৫ রান করতে পেরেছিল। ভারতের বিপক্ষে জিততে হলে ব্যাটিংয়ের এই দুর্দশা কাটাতে হবে পাকিস্তানকে।
দুবাইয়ের কন্ডিশনে রাতে ডিউ থাকলে দ্বিতীয় ইনিংসে বোলিং করা কঠিন হতে পারে। ফলে টসটা গুরুত্বপূর্ণ হবে। টস জিতলে আগে বোলিং বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন অধিনায়ক।
এই ম্যাচ কেবল ক্রিকেট নয়—দুই দেশের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও প্রচণ্ড আবেগ এখানে জড়িত। ভারত টুর্নামেন্টে একক আধিপত্য দেখাচ্ছে। তবে পাকিস্তানও এবার প্রতিশোধের মুডে থাকবে। ফলে জমজমাট এক লড়াইয়ের প্রত্যাশা করতেই পারেন ক্রিকেটপ্রেমীরা।