টঙ্গীতে কেমিক্যাল বিস্ফোরণ, সংকটাপন্ন ফায়ার সার্ভিসের ৩ যোদ্ধা

গাজীপুরের টঙ্গীতে কেমিক্যাল গুদামে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় আহত ফায়ার সার্ভিসের তিন সদস্য বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন। দগ্ধ হয়ে তারা রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন আছেন।
এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, সরকারের পক্ষ থেকে দগ্ধ ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের চিকিৎসার জন্য সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের সাহসী উদ্ধারকর্মীদের জীবন রক্ষায় সর্বোচ্চ সহযোগিতা নিশ্চিত করা হবে। তাদের চিকিৎসা ও সেবায় কোনো ঘাটতি থাকবে না।”
উল্লেখ্য, টঙ্গীর ওই কেমিক্যাল গুদামে রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে আকস্মিক বিস্ফোরণ ঘটে। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে গুরুতর দগ্ধ হন ফায়ার সার্ভিসের তিন সদস্য। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে ঘটনাস্থল ঘিরে রাখা হয়েছে এবং দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি রোগীদের খোঁজখবর নিতে গিয়ে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, দগ্ধদের চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা করা হবে না। সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে কেমিক্যাল গুদামগুলো অপসারণে।
বার্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডা. নাসির উদ্দিন জানান, বর্তমানে ফায়ার সার্ভিসের তিন সদস্য ইনস্টিটিউটে ভর্তি আছেন। তাদের শরীরের ৪০ শতাংশের বেশি পুড়ে গেছে, এজন্য তাদেরকে হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) রাখা হয়েছে। একজনের অবস্থা আশঙ্কামুক্ত হলেও বাকিদের অবস্থা শঙ্কাজনক।
শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আজ সাক্ষ্য দেবেন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর
তিনি আরও বলেন, দগ্ধ রোগীদের বিদেশে নেয়া হলে ভালো হতে পারে, আবার জটিলতাও দেখা দিতে পারে। তাই এ বিষয়ে সমন্বিত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
এ ঘটনায় আরও একজন দগ্ধ আলআমিন হোসেন বাবু ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি আছেন। তার শরীরের প্রায় ৯৫ শতাংশ দগ্ধ হওয়ায় তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
প্রসঙ্গত, সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গাজীপুরের টঙ্গীর নতুন বাজার রেলগেট সাহারা মার্কেট এলাকায় কেমিক্যাল গুদামে বিস্ফোরণের পর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা ও চার জন ফায়ার ফাইটার দগ্ধ হন। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট।