বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • স্পারসো ও জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে নতুন দায়িত্ব পেলেন দুই কর্মকর্তা মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের নতুন ট্রাস্টি বোর্ড, চেয়ারম্যান তারেক রহমান রপ্তানি নীতিতে পরিবর্তন, ফ্রিল্যান্সার ও ই-কমার্স খাতে বাড়ছে সুযোগ ওয়ানডের নতুন অধিনায়ক লিটন দাস সিলেটে এনসিপির কর্মসূচির পথে হামলার অভিযোগ, ক্ষতিগ্রস্ত সারজিসের গাড়ি মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি, ভুয়া নিয়োগে কঠিন ব্যবস্থা: প্রতিমন্ত্রী ‘দেখি কত সন্ত্রাসী আছে এই সরকারের’, গোলাপগঞ্জে যাওয়ার ঘোষণা নাহিদ ইসলামের হামের উপসর্গে আরও চার শিশুর মৃত্যু, বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যাও ঢাকায় পৌঁছেছেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত সার্জিও গোর এডিবির বাংলাদেশ কার্যালয়ের দায়িত্বে চিংফেং ঝাং
  • দর্জি আজাদের ১৮ বছরে ১০ হাজার তালগাছ রোপণ

    দর্জি আজাদের ১৮ বছরে ১০ হাজার তালগাছ রোপণ
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সিরাজগঞ্জ পৌর শহরের তিন লাখ মানুষের একজন আবুল কালাম আজাদ। বয়স ৬৪ ছুঁই ছুঁই। পেশায় দর্জি। জীবনের টানাটানির সংসার চালাতে দিনরাত সেলাই মেশিন ঘোরান। স্ত্রী ও চার মেয়েকে নিয়ে শহরের সয়াধানগড়া মধ্যপাড়ায় তাঁর বসবাস। আর্থিক অস্বচ্ছলতার মাঝেই সমাজ ও মানুষের জন্য ভিন্ন এক দায়িত্ববোধ থেকে শুরু করেছেন ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ।

    ২০০৮ সালে শহরের ঐতিহ্যবাহী কাটাখালের দু’ধারে তালগাছ লাগানোর মধ্য দিয়ে তাঁর যাত্রা শুরু। সেই থেকে গত ১৮ বছরে শহর ও গ্রামের বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ১০ হাজার তালগাছ রোপণ করেছেন তিনি।

    ২৩ বছর আগে নিজ বাড়িতে এক সামাজিক অনুষ্ঠানে বজ্রপাতের ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে তালগাছের নিচে আশ্রয় নিয়েছিলেন কালাম ও তাঁর আত্মীয়রা। পরে দেখেন, বজ্রপাতের আঘাতে গাছটি পুড়ে গেছে। তখন তাঁর উপলব্ধি হয়। তালগাছ হয়তো নিচে থাকা মানুষদের জীবন বাঁচিয়েছে। গবেষণা করে তিনি জানতে পারেন। তালগাছ বজ্রপাত থেকে মানুষের জীবন রক্ষা করতে সহায়তা করে। সেদিন থেকে তালগাছ লাগানোর অঙ্গীকার করেন তিনি।

    আবুল কালাম আজাদ বলেন, কাটাখালের দু’ধারে হাজার দুই তালগাছ রোপণের মাধ্যমে শুরু হয় তাঁর পথচলা। এরপর ধাপে ধাপে শহর ও গ্রামে শিয়ালকোল, বহুলী, খোকশাবাড়ী, কাওয়াখোলা, খামারবাড়ি, রাণীগ্রাম বটতলা, খলিশাকুড়া, পুলিশ লাইন, গাবতলা, কয়েলগাতি, ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির, কবরস্থান, শশ্মান, রেলস্টেশনসহ পথচারী চলাচলে তালগাছ রোপণ করেছেন। জেলা প্রশাসক কার্যালয় এলাকা, স্বাধীনতা স্কয়ার ও বাজার স্টেশনেও তিনি গাছ লাগিয়েছেন।

    অর্থনৈতিকভাবে সীমিত হলেও পেশার আয়ের সামান্য অংশ সঞ্চয় করে তিনি এই উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। অনেক ব্যবসায়ী ও শুভাকাঙ্ক্ষী বিনামূল্যে তাঁকে তালবীচ সরবরাহ করেন। পরিবারও একসময় নিরুৎসাহিত করলেও এখন তাঁকে সমর্থন দিচ্ছে।

    তালগাছ লাগাতে গিয়ে বিরূপ মন্তব্যও শুনতে হয়েছে তাঁকে। তবে এখন অনেকেই তাঁর কাজের প্রশংসা করেন। এক সময় যিনি তাঁকে তিরস্কার করেছিলেন। তিনি নিজেই এসে স্বীকার করেছেন। তুমি সঠিক কাজ করছো। এই স্বীকৃতিই তাঁকে আরও অনুপ্রাণিত করেছে।

    আবুল কালাম আজাদের তালগাছ রোপনে দৃঢ় বিশ্বাস রেখে বলেন, যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিন তালগাছ লাগিয়েই যাব। সমাজের প্রতি একজন নাগরিক হিসেবে আমারও দায়িত্ব আছে। আমার মতো সবারই উচিত নিজ নিজ জায়গা থেকে পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখা।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন