শনিবার, ০২ মে ২০২৬
Natun Kagoj

হুমায়ুন কবিরের উত্থান থেকে আজ পর্যন্ত

হুমায়ুন কবিরের উত্থান থেকে আজ পর্যন্ত
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

সাধারণ ড্রাইভার থেকে আওয়ামী লীগের অনুগত কর্মকর্তাদের সহায়তায় এএসআই পদে উন্নীত। যাত্রাবাড়ী থানায় কুখ্যাত ওসি মাজাহারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হয়ে মাদক সিন্ডিকেট থেকে লাখ লাখ টাকা আদায়করতেন হুমায়ুন।

খুতুবখালি এলাকায় মাদকের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে পুলিশের এক সোর্স খুন হলে তার নাম জড়ায়। ওসি মাজাহারের আশ্রয়ে মামলা থেকে বাঁচেন হুমায়ন।

ছাত্র-জনতার জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যাত্রাবাড়ীতে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানো এবং লাশের মিছিল গড়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।

শেখ হাসিনার পতনের পর শাস্তি না দিয়ে বরিশালের বাকেরগঞ্জ থানায় বদলি করা হয়।

নতুন কর্মস্থল বাকেরগঞ্জে ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে তার।

আহসান: আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী মাদক কারবারিদের নিরাপদ ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। সেই সময় আলোচনায় উঠে আসে এক নাম—হুমায়ুন কবির। সাধারণ ড্রাইভার থেকে পদোন্নতি পেয়ে তিনি এএসআই হন এবং যাত্রাবাড়ী থানায় যোগ দিয়ে আশীর্বাদ পান তৎকালীন কুখ্যাত ওসি মাজাহারের। দু’জন মিলে মাদক সিন্ডিকেট থেকে কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন করতেন। অনেকেই হুমায়ুনকে ওসির ক্যাশিয়ার বলে চিনতেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, থানায় আটক হওয়া ইয়াবা এএসআই হুমায়ুন সাইনবোর্ড এলাকায় এক মাদক ব্যবসায়ীর কাছে নিয়মিত বিক্রি করতেন।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, যাত্রাবাড়ীর খুতুবখালি এলাকায় পুলিশের এক সোর্স মাদকের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে খুন হন। আলোচনায় উঠে আসে হুমায়ুন কবির ও এসআই নির্মল কুমার আগারওয়ালের নাম। তাদের সঙ্গেই ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্ব হয়েছিল খুন হওয়া ওই সোর্সের। পরে ওসি মাজাহার তাদের নিরাপদে দূরে পোস্টিং দিয়ে রক্ষা করেন। এক বছর পরপর আবার যাত্রাবাড়ীতে ফিরিয়ে এনে নিজের ছায়াতলে রাখতেন হুমায়ুনকে।

ছাত্র-জনতার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় যাত্রাবাড়ীতে পুলিশের হামলা ও গুলিতে প্রাণহানি ঘটে। এলাকাবাসীসহ আন্দোলনকারীদের দাবি, ওই সময় গুলির নেতৃত্বে বড় অফিসারদের থেকেও অগ্রণী ভূমিকায় ছিলেন হুমায়ুন কবির।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর আহত সমন্বয়ক ইমন হোসেন জানান, হুমায়ুন কবির যাত্রাবাড়ীতে মাদক কারবারিদের বন্ধু ছিলেন, আর আন্দোলনের সময় ছাত্রদের ওপর হামলা ও গুলি চালিয়েছিলেন। সে নিজেকে পটুয়াখালীর সাবেক ছাত্র লীগের নেতা হিসেবে গর্বের সঙ্গে যাত্রাবাড়ীতে পরিচয় দিতেন।

স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতনের পর যেখানে দুর্নীতিবাজ পুলিশ কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার কথা, সেখানে হুমায়ুন কবিরকে কোনো শাস্তি না দিয়ে বরং সম্মানজনকভাবে বদলি করা হয়েছে বরিশালের বাকেরগঞ্জ থানায়। যেটা তার নিজ এলাকার কাছাকাছি।অভিযোগ আছে, নতুন কর্মস্থলেও তিনি ঘুষ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন।

প্রশ্ন উঠছে, যাত্রাবাড়ীতে দুর্নীতি, মাদক ব্যবসার ছত্রছায়া এবং আন্দোলনকারীদের রক্তাক্ত করার মতো ঘটনায় জড়িত এক পুলিশ কর্মকর্তা কীভাবে এখনো বহাল তবিয়তে চাকরি করছেন?

এবিষয়ে এসআই হুমায়ুনের মুঠোফোন নাম্বারে ফোন করে বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন আপনারা নিউজ করেন।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আরও পড়ুন