লক্ষ্মীপুরে শাকসবজির প্রচুর, তবুও দাম নাগালের বাইরে

লক্ষ্মীপুর জেলা শহর ও উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে মৌসুমি শাকসবজির প্রচুর দেখা গেলেও দাম কমছে না। প্রতিদিন ভোর থেকেই স্থানীয় কৃষকরা টাটকা সবজি নিয়ে বাজারে ভিড় জমাচ্ছেন। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ— সবজি বাজারে প্রচুর সরবরাহ থাকলেও দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে।
শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে লক্ষ্মীপুর শহর, জকশিন বাজার , রায়পুর পৌরবাজার ও চন্দ্রগঞ্জ বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে শাকসবজির স্তূপ। লাউ, কুমড়া, পটল, ঢেঁড়স, শিম, কাঁচামরিচ, করলা, পালংশাকসহ প্রায় সব ধরনের সবজি প্রচুর পরিমাণে উঠছে। কিন্তু দাম কমেনি বরং কিছু ক্ষেত্রে বেড়েছে।
ভোক্তারা জানাচ্ছেন, এক কেজি ঢেঁড়স বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকায়, কাঁচামরিচ ২০০ টাকায়, করলা ৬০-৭০ টাকায়, লাউ ও কুমড়া প্রতিটি ৮০-১০০ টাকায়।
ক্রেতা কামাল উদ্দিন বলেন, “বাজারে সবজির কোনো অভাব নেই, কিন্তু দাম এমন যে সাধারণ মানুষের জন্য কিনে খাওয়া কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে। যে লাউ আগে ৫০ টাকায় কিনতাম এখন সেটি ৯০ টাকা।”
অন্যদিকে বিক্রেতারা দাবি করছেন, পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। পরিবহন খরচ ও বিভিন্ন অজুহাতে দাম বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাই খুচরা বিক্রেতাদের কিছু করার নেই।
সবজি ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, “আমরা কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি পাই না। পাইকারদের কাছ থেকে বেশি দামে কিনতে হয়। পরিবহন ভাড়া, বাজার খরচ সব মিলে দাম বেড়ে যায়। আমাদেরও বাধ্য হয়ে বেশি দামে বিক্রি করতে হয়।”
কৃষকরা আবার ভিন্ন অভিযোগ তুলেছেন। তারা বলছেন, মাঠ থেকে পাইকাররা কম দামে সবজি কিনে নিয়ে যায়, কিন্তু বাজারে পৌঁছে সেই সবজি কয়েকগুণ দামে বিক্রি হয়। ফলে উৎপাদক ও ভোক্তা— দুজনই বঞ্চিত। লাভবান হচ্ছে এক শ্রেণির মধ্যস্বত্বভোগী।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে একশ্রেণির ব্যবসায়ী দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ছাড়া এ সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়।
এদিকে ক্রমবর্ধমান সবজির দাম নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে। তারা চাইছেন— সরকার ও প্রশাসনের উদ্যোগে বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।