প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণের সহজ উপায়

আধুনিক ব্যস্ত জীবনে হৃদরোগের আশঙ্কা ক্রমশ বেড়ে চলেছে। অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব ও অস্বাস্থ্যকর জীবনধারা রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে তোলে, যা হৃদযন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক। লো-ডেনসিটি লিপোপ্রোটিন (এলডিএল) বা খারাপ কোলেস্টেরল রক্তনালিতে চর্বি জমিয়ে ব্লক তৈরি করে, আর হাই-ডেনসিটি লিপোপ্রোটিন (এইচডিএল) বা ভালো কোলেস্টেরল এই ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। তাই কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা এখন সুস্থ জীবনের অপরিহার্য শর্ত।
কোলেস্টেরলের ধরন: কোলেস্টেরল মূলত রক্তের মধ্যে ফ্যাট ও ভিটামিন পরিবহণ করে। এটি দুটি ধরনের হয়—
লো-ডেনসিটি লিপোপ্রোটিন (এলডিএল): খারাপ কোলেস্টেরল হিসেবে পরিচিত। বেশি মাত্রায়এলডিএল রক্তনালির প্রাচীরে জমে যাওয়া অর্থাৎ ধমনীতে ব্লক তৈরি করতে পারে, যা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়।
হাই-ডেনসিটি লিপোপ্রোটিন (এইচডিএল): ভালো কোলেস্টেরল। এটি এলডিএলকোলেস্টেরল রক্তনালী থেকে দূরে সরিয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।
কোলেস্টেরল উৎপাদনে লিভারের ভূমিকা রয়েছে, কিন্তু পরিবারিক ইতিহাস, ধূমপান, অলস জীবনযাপন এবং অতিরিক্ত মদ্যপান এর মাত্রা বাড়াতে পারে। চিকিৎসকরা এমন কিছু উপায় জানিয়েছেন যা অনুসরণ করলে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ এবং হার্ট সুস্থ রাখা সম্ভব।
১. মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট খাওয়া
মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে এবং ভালো কোলেস্টেরল বাড়াতে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, এই ধরনের ফ্যাট সমৃদ্ধ ডায়েট, যেমন মেদিটারেনিয়ান ডায়েট, খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে কার্যকর। এছাড়াও জলপাই তেল, বাদাম, অ্যাভোকাডো, জলপাই, বাদামের বাটার, ক্যানোলা তেল ভালো কোলেস্টেরল বাড়ায়।
২. পলিস্যাচুরেটেড ফ্যাট অগ্রাধিকার দিন
পলিস্যাচুরেটেড ফ্যাট, বিশেষ করে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, হার্টের জন্য স্বাস্থ্যকর। এটি খারাপ কোলেস্টেরল কমায় এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও মেটাবলিক সিনড্রোমের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। তাই খাদ্যতালিকায় রাখুন স্যামন, ম্যাকারেল, হেরিং, ব্লুফিন বা আলবাকোর টুনা, সামুদ্রিক শেলফিশ।
৩. ট্রান্স ফ্যাট সীমিত করুন
হাইড্রোজেনেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি ট্রান্স ফ্যাট খারাপ কোলেস্টেরল বাড়ায় এবং ভালো কোলেস্টেরল কমায়। সে কারণেই ট্রান্স ফ্যাট কমিয়ে দেন। মার্জারিন, বেকড পণ্য, ফ্রাইড ফাস্ট ফুড, কিছু পিজ্জা, নন-ডেইরি কফি ক্রিমারে ট্রান্স ফ্যাট থাকে তাই এই খাবারগুলো কম খাওয়ার চেষ্টা করতে পারেন।
৪. নিয়মিত ব্যায়াম করুন
সপ্তাহে কমপক্ষে ১৫০ মিনিট মাঝারি-পর্যায়ের এ্যারোবিক ব্যায়াম এলডিএল কমায় এবং এইচডিএল বাড়ায়। শক্তি বৃদ্ধি ব্যায়ামের সঙ্গে মিলিয়ে আরও ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। তাই প্রতিদিন ব্যস্ততার মাঝেও সময় করে ব্যায়াম করার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। সুস্থ থাকতে ব্যায়াম করা অভ্যাসে পরিণত করতে পারেন। এতে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
৫. স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখুন
অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা খারাপ কোলেস্টেরল। তবে ওজন কমালে খারাব কোলেস্টেরল কমে এবং ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায়। একজন চিকিৎসকের পরামর্শে স্বাস্থ্যকর ডায়েট ও ওজন ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা করুন।
৭. ধূমপান এড়ান
ধূমপান শরীরের ভয়াবহ ক্ষতি করে। এই অভ্যাস ধূমপান এলডিএল বাড়ায়, এইচডিএল কমায় এবং রক্তনালির ক্ষতি করে। তাই ধূমপান বন্ধ করলে এসব ক্ষতিকর প্রভাব কমানো সম্ভব।
৮. প্ল্যান্ট স্টেরল ও স্ট্যানল খাওয়া
প্রতি দিন ১.৫–৩ গ্রাম প্ল্যান্ট স্টেরল বা স্ট্যানল এলডিএল ৭.৫–১২ শতাংশ কমাতে সাহায্য করে। তাই খাদ্যতালিকায় ভেজিটেবল অয়েল ও বাটার সাবস্টিটিউটেও যুক্ত করতে পারেন।
সুষম খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর ওজন, ধূমপান এড়ানো এবং প্রয়োজনীয় সাপ্লিমেন্টের মাধ্যমে খারাপ কোলেস্টেরল কমানো এবং ভালো কোলেস্টেরল বাড়ানো সম্ভব। এটি কেবল কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ নয়, হার্ট স্বাস্থ্যও নিশ্চিত করে। সঠিক জীবনযাপনই হলো দীর্ঘমেয়াদি সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি।
দৈএনকে/ জে. আ