সকালে ভেজানো মেথি-ঢেঁড়স পানির স্বাস্থ্যকর ৫ প্রভাব

সকালের দিনযাত্রা যদি শুরু হয় এক গ্লাস স্বাস্থ্যকর পানীয় দিয়ে, তবে সারাদিন কাটতে পারে অনেক বেশি সতেজ ও কর্মউদ্দীপনায় ভরপুর। এমনই একটি প্রাকৃতিক ও বহুদিন ধরে প্রচলিত পানীয় হলো মেথি ও ঢেঁড়স ভেজানো পানি। এই ঘরোয়া পানীয়তে রয়েছে ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও নানান ভেষজ উপাদান, যা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখা থেকে শুরু করে ওজন কমানো, হজমশক্তি বৃদ্ধি এবং ত্বক-চুলের যত্নে কার্যকর ভূমিকা রাখে। নিচে দেওয়া হলো এই প্রাকৃতিক পানীয়টির পাঁচটি বড় উপকারিতা।
১. রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
মেথি ও ঢেঁড়স দুই উপাদানই বহু বছর ধরে ডায়াবেটিস প্রতিরোধে ব্যবহার হয়ে আসছে। রাতে পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে খালি পেটে এই পানি পান করলে এটি ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়ায় এবং রক্তে হঠাৎ করে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়াকে ঠেকাতে সাহায্য করে।
গবেষণার তথ্য: ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনে প্রকাশিত একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রিডায়াবেটিক রোগীদের প্রতিদিন মাত্র ১০ গ্রাম মেথি গুঁড়ো খাওয়ালে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ৪ গুণ কমে যায়।
২. হজমে সহনশীলতা ও আরামদায়ক অনুভূতি
ঢেঁড়সে থাকা প্রাকৃতিক মিউসিলেজ এবং মেথির ফাইবার মিলিয়ে এই পানি হজমতন্ত্রে একটি কোমল প্রভাব ফেলে। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, পেট ফোলাভাব কমায় এবং সামগ্রিকভাবে হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করে। সকালে খালি পেটে পান করলে হজমতন্ত্র ধীরে ধীরে সক্রিয় হয়।
৩. ওজন কমাতে সহায়ক হতে পারে
এই পানীয় পেট ভরাট থাকার অনুভূতি সৃষ্টি করে, ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে। মেথি কার্বোহাইড্রেটের হজম ধীর করে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা ও ক্ষুধার মাত্রা উভয়ই নিয়ন্ত্রণে রাখে। এটি যদিও জাদুকরী কোনো উপায় নয়, তবে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও অনুশীলনের সঙ্গে এটি কার্যকর হতে পারে।
৪. প্রাকৃতিকভাবে প্রদাহ কমাতে পারে
মেথি ও ঢেঁড়স দু’টিতেই রয়েছে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান, যা দেহের ভিতরের প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে। দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ যেমন জয়েন্টের ব্যথা, দুর্বলতা বা মেটাবলিক সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত, তা প্রশমনে এই পানীয় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
৫. ত্বক ও চুলের যত্নে উপকারী
ঢেঁড়সের ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, এবং মেথির অ্যামিনো অ্যাসিড ও আয়রন একত্রে ত্বক ও চুলকে পুষ্টি যোগায়। নিয়মিত পান করলে ত্বক হয় মসৃণ ও উজ্জ্বল, চুল পড়া হ্রাস পায়। ধীরে হলেও নিয়মিত গ্রহণে ফল পাওয়া যায়।
পানিশোধনে ঢেঁড়স ও মেথির ব্যবহার
২০২৪ সালে ‘এসিএস ওমেগা’ -তে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ঢেঁড়স ও মেথির নির্যাস থেকে তৈরি প্রাকৃতিক ‘ফ্লকুল্যান্ট’ দিয়ে সমুদ্র ও মিষ্টি পানির ৯০ শতাংশ পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক দূর করা সম্ভব। রাসায়নিক দূষণ ছাড়াই এটি একটি পরিবেশবান্ধব বিকল্প।
দৈএনকে/ জে .আ