লিভারের যত্নে উপকারী ৫টি ফল

লিভার সুস্থ থাকলে পুরো শরীরও থাকে সুস্থ। রক্ত পরিশোধন থেকে শুরু করে অতিরিক্ত গ্লুকোজ গ্লাইকোজেনে রূপান্তর—লিভারের কাজের পরিধি ব্যাপক। তাই লিভারের যত্ন নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ড. জোসেফ সালহাব সম্প্রতি পাঁচটি ফলের নাম জানিয়েছেন, যা প্রাকৃতিকভাবেই লিভারকে সুস্থ ও আর্দ্র রাখে এবং এর কার্যক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে।
তার মতে, এসব ফলে থাকা বিশেষ যৌগ রক্তনালিকে শিথিল করে, ফলে লিভারে রক্তপ্রবাহ বাড়ে এবং অক্সিজেন ও পুষ্টি সরবরাহ উন্নত হয়। এতে লিভারের বিপাকীয় প্রক্রিয়া সক্রিয় হয়।
জাতীয় মেডিসিন লাইব্রেরির এক গবেষণায়ও বলা হয়েছে, বেশি ফল খাওয়ার অভ্যাস কিছু জনগোষ্ঠীতে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ (এনএএফএলডি)-এর ঝুঁকি কমাতে পারে। নিচে দেয়া হলো ড. জোসেফের প্রস্তাবিত ৫ ফল ও সেগুলোর উপকারিতা এবং সঠিকভাবে খাওয়ার উপায়।
১. ডালিম
ডালিমে পিউনিক্যালাজিন ও এলাজিক অ্যাসিডের মতো শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা লিভারের প্রদাহ কমাতে এবং কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে। এটি লিভারের ডিটক্সিফিকেশন এনজাইম সক্রিয় করে, যা শরীরের বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘমেয়াদি ডালিম খাওয়া স্থূলতা ও বিপাকীয় সমস্যায় ভোগা প্রাপ্তবয়স্কদের লিভার এনজাইমের উন্নতি ঘটাতে পারে।
খাওয়ার উপায়: এক বাটি দইয়ের সঙ্গে একটি ডালিমের দানা মিশিয়ে নিন, সঙ্গে ভিজানো চিয়া সিডস যোগ করুন।
২. আঙুর
আঙুর হৃদপিণ্ড ও লিভারের রক্তপ্রবাহ বাড়াতে সাহায্য করে। এতে থাকা পলিফেনল, রেসভেরাট্রল ও ফ্ল্যাভোনয়েড অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমিয়ে লিভারকে সুরক্ষা দেয়। এছাড়া এটি ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বাড়ায়, যা রক্তে শর্করা ও লিভারে চর্বি জমা নিয়ন্ত্রণে রাখে।
খাওয়ার উপায়: বিভিন্ন ধরনের আঙুর একসঙ্গে মিশিয়ে ফলের বাটি তৈরি করুন, ফ্ল্যাক্স সিড দিয়ে সাজিয়ে নিন। চাইলে আঙুরের রস বা জ্যামও তৈরি করতে পারেন।
৩. বেরি ফল
বেরিতে থাকা প্রোঅ্যান্থোসায়ানিডিনস রক্তনালিকে শিথিল করে ও রক্তপ্রবাহ উন্নত করে। গবেষণায় প্রমাণিত, বেরি এক্সট্র্যাক্ট লিভারের প্রদাহ কমাতে, ক্ষতি প্রতিরোধে এবং চর্বি জমা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। নিয়মিত খেলে রক্তচাপ, এলডিএল কোলেস্টেরল কমে এবং হৃদযন্ত্রের সুস্থতা বাড়ে।
খাওয়ার উপায়: এক বাটি দইয়ের সঙ্গে বেরি মিশিয়ে নিন, ওপর থেকে ফ্ল্যাক্স সিড ছিটিয়ে খান।
৪. তরমুজ
তরমুজে প্রায় ৯২% পানি থাকে, যা শরীর ও লিভারকে আর্দ্র রাখে এবং ডিটক্সিফিকেশনে সাহায্য করে। এতে থাকা লাইপেন শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে, যা লিভারের প্রদাহ ও অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায়।
খাওয়ার উপায়: তরমুজ ব্লেন্ড করে তাতে ফ্ল্যাক্স সিড মিশিয়ে তাজা জুস হিসেবে পান করুন।
৫. বিটরুট
বিটরুটে প্রচুর নাইট্রেট থাকে, যা রক্তনালির স্বাস্থ্যের জন্য ভালো এবং লিভারে রক্তপ্রবাহ ও অক্সিজেন সরবরাহ বাড়ায়। এতে থাকা বেটালেইনস ও বেটাইন লিভারের কোষকে সুরক্ষা দেয় ও প্রদাহ কমায়।
খাওয়ার উপায়: কুচানো বিটরুট দিয়ে দইয়ের রায়তা বানিয়ে তাতে ফ্ল্যাক্স সিড ছিটিয়ে খান। চাইলে স্মুদি বানিয়ে ভিজানো চিয়া সিডস মিশিয়ে নিতে পারেন।
এই তথ্য সাধারণ জ্ঞানের জন্য দেয়া হয়েছে। কোনো নতুন খাদ্যাভ্যাস শুরু করার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
দৈএনকে/জে, আ