সৃজনশীল শিল্পকে অর্থনীতির চালিকাশক্তি করতে চায় সরকার: অর্থমন্ত্রী

সৃজনশীল শিল্প ও সংস্কৃতিকে দেশের অর্থনীতির মূলধারায় যুক্ত করে নতুন প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি এবং বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ‘সফট পাওয়ার’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে শিল্প-সংস্কৃতি, গ্রামীণ কারুশিল্প, সংগীত, চলচ্চিত্র ও থিয়েটার খাতের বিকাশে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
আজ রাজধানীর একটি হোটেলে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্রিয়েটিভ ফুটপ্রিন্টস’ (Creative Footprints) বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রচলিত অর্থনৈতিক চিন্তায় শিল্প ও সংস্কৃতিকে দীর্ঘদিন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের তুলনামূলক গৌণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। বর্তমান সরকার এ ধারণা থেকে বেরিয়ে সৃজনশীল অর্থনীতিকে দেশের প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নতুন উপাদান হিসেবে যুক্ত করতে চায়।
তিনি বলেন, সরকারের একার পক্ষে এ খাতের সব সম্ভাবনা কাজে লাগানো সম্ভব নয়। তাই নীতি সহায়তা ও অর্থায়নের পাশাপাশি বেসরকারি খাত এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর (এনজিও) সঙ্গে শক্তিশালী অংশীদারত্ব গড়ে তোলা হবে। এ খাতের জন্য সরকার ইতিমধ্যে বাজেটে প্রয়োজনীয় তহবিল বরাদ্দ করেছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি বেসরকারি খাত থেকেও উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সৃজনশীল খাতের বিকাশে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে আমির খসরু বলেন, দেশীয় কারুশিল্পী, চিত্রশিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন, নকশা, ব্র্যান্ডিং এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য বিপণনে সহযোগিতা দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে আমাজন, ইবে ও আলিবাবার মতো আন্তর্জাতিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের সুযোগ তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।
এর ফলে প্রান্তিক শিল্পী ও কারুশিল্পীদের তৈরি পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা এবং সেগুলোকে বাণিজ্যিকভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী। এতে তাঁদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সম্ভাবনাও বাড়বে।
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি গঠনে সাংস্কৃতিক উপাদানের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, সৃজনশীল শিল্প কেবল শিল্পকর্ম, কারুশিল্প বা ব্যবসার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি দেশের সাংস্কৃতিক পরিচিতি ও প্রভাব বিস্তারেরও একটি মাধ্যম। সংগীত, থিয়েটার, চলচ্চিত্র ও হস্তশিল্পের মাধ্যমে বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করাই সরকারের লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক। এ ছাড়া বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের লিটু এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হক উপস্থিত ছিলেন।