গাজায় ফের রক্তপাত, ইসরায়েলি হামলায় নিহত নারীসহ ৮

গাজায় যুদ্ধবিরতি এবং হামাসের নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হলেও ইসরাইলের সামরিক অভিযান থামেনি। সর্বশেষ হামলায় গাজা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত আট ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার সিভিল ডিফেন্স।
রোববার (২ আগস্ট) দেইর আল-বালাহ, খান ইউনিস ও গাজা সিটিসহ একাধিক স্থানে এসব হামলা চালানো হয়। স্থানীয় উদ্ধারকর্মীদের তথ্য অনুযায়ী, দেইর আল-বালাহর দক্ষিণে একটি আবাসিক ভবনে ইসরাইলি হেলিকপ্টারের হামলায় এক নারী ও এক পুরুষ নিহত হন। এছাড়া খান ইউনিসে পৃথক হামলায় তিনজন এবং গাজা সিটির পুরোনো এলাকায় আরও একজন প্রাণ হারান। অন্যান্য এলাকায় হামলায় বাকি হতাহতের ঘটনা ঘটে।
এর মাত্র দুই দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গাজা যুদ্ধের অবসান এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের লক্ষ্যে নতুন একটি শান্তি উদ্যোগ সামনে আসে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই প্রস্তাবে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং ধাপে ধাপে গাজা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত ওই উদ্যোগ বাস্তবায়নের কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। হামাস জানিয়েছে, পূর্ববর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী ইসরাইল যদি গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করে এবং সামরিক অভিযান বন্ধ করে, তাহলে অস্ত্র হস্তান্তরের বিষয়টি আলোচনায় আনা যেতে পারে।
অন্যদিকে, রয়টার্সের বরাতে এক ইসরাইলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হামাসের ‘সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ’ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের কোনো পরিকল্পনা নেই।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য না করলেও দেশটির জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির শান্তি প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছেন। তিনি হামাসের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থানরত ফাতাহর সাবেক জ্যেষ্ঠ নেতা মোহাম্মদ দাহলান বলেছেন, মার্কিন মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা এখনও অব্যাহত রয়েছে। তবে আলোচনার সফলতা নির্ভর করবে ইসরাইল দৈনন্দিন সামরিক অভিযান বন্ধ করে কি না, তার ওপর।
এরই মধ্যে শনিবার মধ্য গাজায় ইসরাইলি হামলায় একটি চিকিৎসাসামগ্রীর গুদাম ধ্বংস হয়ে যায়। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, বিস্ফোরণে প্রায় ২০ মিটার প্রশস্ত এবং ১০ মিটার গভীর গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এতে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমও নতুন করে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ চলমান থাকলেও গাজায় হামলা অব্যাহত থাকায় বেসামরিক প্রাণহানি বাড়ছে। ফলে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার কার্যকারিতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।