দেশে ফিরলে আইনের মুখোমুখি হবেন শেখ হাসিনা: আইনমন্ত্রী

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কীভাবে বাংলাদেশে ফিরবেন, সেটি তার ব্যক্তিগত বিষয়। তবে তিনি দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আওতায় এলে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সচিবালয়ে আইনগত সহায়তা প্রদানবিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
শেখ হাসিনাকে দেশে প্রত্যর্পণের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি দণ্ডিত হলেও বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আইনের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আত্মসমর্পণের অধিকার তার রয়েছে। তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী আত্মসমর্পণের আগেই তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে আইন নিজের গতিতেই চলবে এবং আইনের বাইরে গিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। যেহেতু আগামী ৬০ দিনের মধ্যেই সংসদের পরবর্তী অধিবেশন বসার কথা রয়েছে, তাই আপাতত বিশেষ অধিবেশন আহ্বানের প্রয়োজন দেখা দেয়নি। তবে প্রয়োজন হলে সরকার বিশেষ অধিবেশন ডাকতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
দেশের বিচারব্যবস্থার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে আইনমন্ত্রী জানান, বর্তমানে প্রায় ৪৫ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যা আদালতগুলোর ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে। মামলা জট কমাতে সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। তবে এ সমস্যার সমাধানে শুধু সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। এজন্য বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা ও অংশীজনকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।
তিনি জানান, ব্র্যাক ও ব্লাস্টের সঙ্গে সমন্বিতভাবে আইনি সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি জিআইজেড, ইউএনডিপি এবং জাইকা বাংলাদেশের সহযোগিতায় মামলা জট কমানোর নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, আদালতের ওপর চাপ কমাতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) পদ্ধতির ব্যবহার বাড়ানোর জন্য বিচার বিভাগের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, মালয়েশিয়া মাত্র দুই বছরের মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে মামলা জট কমাতে সক্ষম হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থায় কাজে লাগানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সরকার জনগণের কল্যাণে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সময়ের প্রয়োজনে যেসব সংস্কার বা পরিবর্তন প্রয়োজন হবে, সেগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।
বাগেরহাটে কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক গুমের অভিযোগের বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ঘটনাটি স্বাধীনভাবে তদন্ত করা হবে। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্যরা প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে একটি থানা ও সরকারি দপ্তরে ভাঙচুর করেছিলেন। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং তারা হেফাজতে ছিলেন। পরে তাদের আর্থিক অসচ্ছলতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রাষ্ট্রীয় লিগ্যাল এইডের আওতায় আইনি সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রতিটি নাগরিকের আইনগত সহায়তা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। অর্থনৈতিক অসচ্ছলতার কারণে কেউ যেন ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের পর্যবেক্ষণ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। তাদের মতামত উপেক্ষা করা হচ্ছে না এবং প্রয়োজনীয় দিকগুলো পর্যালোচনা করা হবে।