মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • তরুণের চেয়ে প্রবীণ বেশি হবে বাংলাদেশে, সতর্ক করল বিশ্বব্যাংক তুরাগে সাবেক বিমান কর্মকর্তার লাশ উদ্ধার, দীপের রিমান্ড বাড়ল ৩ দিন আজারবাইজান থেকে ফিরেই পুরস্কার পেলেন কিশোর ফুটবলাররা ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ লাখ ছানি অপারেশন, বিতরণ করা হবে ১ কোটি চশমা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট শুরু, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই চার দিন গ্যাস বন্ধের খবর গুজব, সরবরাহ কমতে পারে: পেট্রোবাংলা মিরপুরে একা পেয়ে পুলিশ কনস্টেবলকে পিটিয়ে জখম, হাসপাতালে ভর্তি ২৪ ঘণ্টায় হামে ৬ মৃত্যু, সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত ৫৪৬ জন ঢাকায় ৭ নভেম্বর ছয় ঘণ্টা টোল ছাড়াই চলা যাবে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাক্ষাৎ
  • আগামী গ্রীষ্মের আগে গ্রিডে যুক্ত হবে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ: প্রধানমন্ত্রী

    আগামী গ্রীষ্মের আগে গ্রিডে যুক্ত হবে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ: প্রধানমন্ত্রী
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে সরকারের বিশেষ উদ্যোগের ফলে আগামী গ্রীষ্ম মৌসুম শুরুর আগেই জাতীয় গ্রিডে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট নতুন বিদ্যুৎ যুক্ত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিনিয়োগে প্রণোদনা, কর ও শুল্ক সুবিধাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

    মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে দুই দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ লক্ষ্যের কথা জানান। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল) যৌথভাবে এ আয়োজন করেছে। এবারের এক্সপোর প্রতিপাদ্য ‘প্রতি ইঞ্চি ছাদ কাজে লাগাই, সৌরবিদ্যুতের আয় বাড়াই’।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন ও সম্প্রসারণের প্রক্রিয়া সহজ করতে সরকার ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ ২০২৬’ প্রণয়ন করেছে। এ খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে নীতিগত সহায়তা, কর ও শুল্ক সুবিধা এবং আর্থিক প্রণোদনাও দেওয়া হচ্ছে।

    তিনি বলেন, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী গ্রীষ্ম মৌসুম শুরুর আগেই জাতীয় গ্রিডে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করা সম্ভব হবে।

    সরকারি-বেসরকারি অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, শিল্পকারখানা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়ির অব্যবহৃত ছাদ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহারের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, নেট মিটারিং ব্যবস্থায় নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করলে বিশেষ প্রণোদনার আওতায় ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে তা কিনবে সরকার।

    বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    এই লক্ষ্য অর্জনে সরকার, উদ্যোক্তা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী ও সাধারণ মানুষকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্মিলিত উদ্যোগ থাকলে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অসম্ভব নয়।

    অনুষ্ঠানে ‘ইনোভেটিভ আইডিয়া’ উপস্থাপন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ বিভিন্ন বিষয়ে অন্তত ৩০০ মেধাবী তরুণ-তরুণী তাঁদের উদ্ভাবনী ধারণা জমা দিয়েছেন।

    তারেক রহমান বলেন, আগামীর বাংলাদেশে জ্ঞান ও উদ্ভাবনী ধারণার এমন প্রতিযোগিতা আরও বাড়াতে চান তিনি। তরুণদের কোনো উদ্ভাবনী ভাবনা যেন অর্থের অভাবে হারিয়ে না যায়, সে জন্য চলতি বাজেটে স্টার্টআপ খাতে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী এক্সপোর বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন। তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে উদ্যোক্তারাই মূল ভূমিকা পালন করবেন। এ খাতে অর্থায়ন সহজ করতে সরকার প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার তহবিল বরাদ্দ করেছে। প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে আরও অর্থের সংস্থান করা হবে।

    কুইক রেন্টালের পরিবর্তে সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদনের তাগিদ

    নিজস্ব উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনকে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সোলার এক্সপোতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের উদ্যোক্তা ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ প্রমাণ করে, কুইক রেন্টালের নামে লুটপাটের পরিবর্তে সাশ্রয়ী উপায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনার খাত নয়, বরং অনিবার্য বাস্তবতা।

    অতীতের জ্বালানি নীতির সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, দেশকে পুরোপুরি আমদানিনির্ভর করে তোলার কারণে বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি আমদানিতে বিঘ্ন ঘটেছে। এর প্রভাব পড়েছে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহে, যার ভোগান্তি এখনো পোহাতে হচ্ছে।

    তিনি জানান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ৪৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছে সরকার। চলতি অর্থবছরেও একই পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি ডিজেলের মজুত বাড়ানো, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ ও উৎপাদন নিশ্চিত করা এবং বিকল্প সরবরাহকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জ্বালানি তেল কিনে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য আলাদাভাবে ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

    বিদ্যুৎ সংকট সমাধানই সরকারের অগ্রাধিকার

    বিগত সরকারগুলোর ব্যর্থতা নিয়ে আলোচনা না বাড়িয়ে কীভাবে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়, সেটিই সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতিতে বিশেষ করে প্রান্তিক মানুষের ভোগান্তি সম্পর্কে সরকার সচেতন। সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা, বিদ্যুৎ খাতের চুক্তি পর্যালোচনা, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার, জ্বালানির উৎসে বৈচিত্র্য আনা এবং সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে একযোগে কাজ চলছে।

    বাসাবাড়ি ও প্রতিষ্ঠানের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনের আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, অন্যদের আহ্বান জানানোর আগেই তিনি নিজের বাসায় সৌর প্যানেল স্থাপন করেছেন। সেখান থেকে প্রতিদিন তাঁর প্রয়োজনের অতিরিক্ত কিছু বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।

    সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের দাম কমাতে সোলার প্যানেল, ইনভার্টার ও ব্যাটারির আমদানি এবং দেশীয় উৎপাদনে কর ও শুল্ক ছাড় দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

    সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের পর গ্রাহকদের যথাযথ সেবা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে এক্সপোতে অংশ নেওয়া ৮ হাজারের বেশি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলোকে সৌরবিদ্যুৎ উদ্যোক্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার নির্দেশ দেন।

    সৌরচালিত হবে সেচ পাম্প

    কৃষি খাতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কৃষকদের সেচের জন্য সরকার ভর্তুকিমূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। পর্যায়ক্রমে সেচ পাম্পগুলো সৌরবিদ্যুতে রূপান্তরের কাজ শুরু হয়েছে। বরেন্দ্র অঞ্চলে ইতিমধ্যে এ কার্যক্রম চলছে। আগামী এক বছরের মধ্যে ১৭ হাজার সেচ পাম্পকে সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনার আশা প্রকাশ করেন তিনি।

    বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে দিনের বেলায় প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার এবং প্রয়োজন না থাকলে ফ্যান, বাতি ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বন্ধ রাখার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান তারেক রহমান। উন্নয়ন সহযোগীদের বড় প্রকল্পের পাশাপাশি স্থানীয় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের সৌরবিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগের আহ্বানও জানান তিনি।

    অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, অর্থসচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদসচিব মিরানা মাহরুখ।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন