বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • ঢাকায় ৩৩ স্থানে প্রতিমা বিসর্জন, নিরাপত্তায় ১৬ হাজারের বেশি পুলিশ রাজধানীতে ৫৪৫ সন্দেহভাজন চাঁদাবাজের তালিকা পুলিশের হাতে ডেঙ্গুতে আরও ৭ মৃত্যু, হামের উপসর্গে একজনের মৃত্যু ফাইনালের আশা বাঁচাতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ অতিরিক্ত ডিআইজির ভাড়া বাসায় মাসে ২২টি ডিজে পার্টি, আটক ৮৫ সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, আগে কিছু জানায়নি কর্তৃপক্ষ সুন্দরবন, মোংলা বন্দর ও বেজা ইকোনমিক জোন পরিদর্শনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ঢাকায় ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫১৮ জলবায়ু নীতিতে ঘাটতি, শতাব্দীর শেষে উষ্ণতা বাড়তে পারে ২.৮ ডিগ্রি জুলাইয়ে ছাত্র-জনতা লুটেরা ও চাঁদাবাজদের জন্য রক্ত দেয়নি: শফিকুর রহমান
  • রাস্তার খাবারের দোকান থেকে বড় প্রতিষ্ঠান, খাদ্য ব্যবসায় নিবন্ধন বাধ্যতামূলক

    রাস্তার খাবারের দোকান থেকে বড় প্রতিষ্ঠান, খাদ্য ব্যবসায় নিবন্ধন বাধ্যতামূলক
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে দেশের নির্ধারিত শ্রেণির খাদ্য ব্যবসা ও খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে নিবন্ধন ও লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। আগামী ১ নভেম্বর থেকে এ নিবন্ধন ও লাইসেন্সের জন্য আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

    বুধবার প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ১৬ জুলাই ‘নিরাপদ খাদ্য (রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা, ২০২৬’ সরকারি গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে। নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর আওতায় নতুন এ প্রবিধানমালায় নির্ধারিত খাদ্য ব্যবসা ও খাদ্যপণ্যের জন্য নিবন্ধন এবং লাইসেন্স গ্রহণের বিধান রাখা হয়েছে।

    নতুন নিয়মের আওতায় রাস্তার পাশের অস্থায়ী খাবারের দোকান, ছোট রেস্তোরাঁ, বেকারি, ক্যাটারিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে আমদানিকারক ও বড় খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানও পড়বে। নির্ধারিত শ্রেণির ব্যবসার ধরন অনুযায়ী নিবন্ধন অথবা লাইসেন্স নিতে হবে।

    প্রবিধানমালায় খাদ্য ব্যবসার জন্য নিবন্ধন ও লাইসেন্সের পৃথক বিধান রাখা হয়েছে। নির্ধারিত ১৬ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসা ও খাদ্য স্থাপনার ক্ষেত্রে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। অন্যদিকে বিশেষ ধরনের খাদ্যপণ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, মজুদ, আমদানি ও বিপণনের সঙ্গে যুক্ত নির্ধারিত ব্যবসার জন্য লাইসেন্স নিতে হবে।

    যেসব ব্যবসায় নিবন্ধন লাগবে

    রেস্তোরাঁ, বেকারি, ফলের রসের দোকান, পেস্ট্রি শপ ও ক্যাটারিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধন নিতে হবে। প্যাকেটজাত বা মোড়কজাত খাবার উৎপাদনকারী, মিষ্টির দোকান, দুগ্ধপণ্য প্রস্তুতকারী এবং কাঁচা ও তাজা খাবার ছাড়া অন্যান্য খাদ্যপণ্যের আমদানিকারকরাও এ নিয়মের আওতায় থাকবেন।

    এ ছাড়া রাস্তার পাশে পিঠা, পুরি, পেঁয়াজুসহ বিভিন্ন খাবার বিক্রি করেন এমন ব্যবসায়ীদেরও নিবন্ধন নিতে হবে। পাইকারি মুদি খাদ্য ব্যবসা, কাঁচা ও তাজা খাদ্য আমদানি, খাদ্য সংরক্ষণাগার ও কোল্ড স্টোরেজ, ভোজ্যতেল ও ভোজ্য লবণ উৎপাদনসহ নির্ধারিত খাদ্য ব্যবসার ক্ষেত্রেও নিবন্ধনের বিধান রয়েছে।

    জৈব-খাদ্য, পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য, বিশেষ খাদ্য, প্রোবায়োটিক ও প্রিবায়োটিক খাদ্য, অভিনব খাদ্য, ব্যবহারিক খাদ্য, একাধিক ধাপে প্রক্রিয়াজাত খাদ্য এবং খাদ্য সংযোজন দ্রব্যের উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, মজুদ, আমদানি, রপ্তানি ও বিপণনের সঙ্গে যুক্ত নির্ধারিত ব্যবসাগুলোকেও প্রযোজ্য নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।

    বিশেষ খাদ্যপণ্যে লাগবে লাইসেন্স

    শিশুদের ফর্মুলা দুধ এবং বয়স্ক ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট রোগে আক্রান্তদের জন্য তৈরি বিশেষ খাদ্যপণ্যের মতো পণ্যের ব্যবসায় নির্ধারিত ক্ষেত্রে লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। স্বাস্থ্য সহায়ক ও সম্পূরক খাদ্য, বিশেষ পথ্য, চিকিৎসাসংক্রান্ত বিশেষ পথ্য এবং নিউট্রাসিউটিক্যালসহ অনুরূপ খাদ্যের উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, মজুদ, আমদানি ও বিপণনের ক্ষেত্রেও লাইসেন্স নিতে হবে।

    এ ছাড়া বংশগত বৈশিষ্ট্য পরিবর্তিত বা সংশোধিত খাদ্য, জৈব-খাদ্য, কিরণ-সম্পাতকৃত খাদ্য, স্বতাত্ত্বিকভাবে পরিবর্তিত খাদ্য, অভিনব খাদ্য ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্যের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী নিবন্ধন বা লাইসেন্স নিতে হবে। স্বাস্থ্য সহায়ক দাবি কিংবা রোগের ঝুঁকি হ্রাসের দাবি-সংবলিত খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বিধান অনুসরণ করতে হবে।

    আবেদন, ফি ও মেয়াদ

    নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রবিধানমালার তফসিল-১০-এ নির্ধারিত ফি পরিশোধ এবং সংশ্লিষ্ট শর্ত পূরণ করে আবেদন করতে হবে। বাধ্যতামূলক লাইসেন্সের জন্য প্রযোজ্য ফরম ৬.১, ৭.১, ৮.১ ও ৯.১ এবং নিবন্ধনের জন্য ফরম ৫.১ অনুযায়ী আবেদন জমা দিতে হবে।

    নিবন্ধন ও লাইসেন্সের মেয়াদ হবে তিন বছর। মেয়াদ শেষ হলে তা নবায়ন করতে হবে। প্রচলিত ১৬ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসার প্রথমবার নিবন্ধনের জন্য কোনো ফি লাগবে না। তবে বিশেষ খাদ্যপণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের প্রিমিসেস লাইসেন্স ফি প্রতিষ্ঠানের আয়তনের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, ১০০ বর্গমিটার বা তার কম আয়তনের প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ফি ১০ হাজার টাকা। অন্যদিকে ১০ হাজার বর্গমিটারের বেশি আয়তনের প্রতিষ্ঠানের নতুন লাইসেন্সের জন্য ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৬০ হাজার টাকা।

    প্রতিটি খাদ্যপণ্যের প্যাকেটে বিএফএসএ নিবন্ধন নম্বর উল্লেখ করতে হবে। এর মাধ্যমে ভোক্তারা পণ্য দেখে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন সম্পর্কে জানতে পারবেন এবং অভিযোগের ক্ষেত্রে নম্বরটি উল্লেখ করতে পারবেন।

    প্রাথমিক পর্যায়ে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট জেলা কার্যালয় থেকে নিবন্ধন ও লাইসেন্সের আবেদন করা যাবে। পাশাপাশি ধাপে ধাপে শতভাগ অনলাইন আবেদন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

    নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ বলেছে, নিবন্ধন বা লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক—এমন ব্যবসা প্রয়োজনীয় নিবন্ধন বা লাইসেন্স ছাড়া পরিচালনা করা নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। তাই সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন