বরিশালে পুলিশ হেফাজতে নারীর মৃত্যু, স্বামীর অভিযোগ ‘পিটিয়ে হত্যা’

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় পুলিশ হেফাজতে নাদিরা বেগম (৪০) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার স্বামী এনামুল হক গাজী। তবে পুলিশ বলছে, মাদকবিরোধী অভিযানে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তারের পর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ‘আদালতে নেওয়ার পথে’ নাদিরা বেগমের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন আদালত পুলিশের পরিদর্শক মো. আনোয়ার হোসেন। তিনি উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের কৃষ্ণকাঠি গ্রামের বাসিন্দা এনামুল হক গাজী ওরফে মন্টু মেম্বারের স্ত্রী।
পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বুধবার ভোর রাত সাড়ে ৩টার দিকে মাদকবিরোধী অভিযানের সময় নাদিরাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দাবি, নাদিরার কাছ থেকে ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তিনি ইয়াবা গিলে ফেলেন। পরে পাকস্থলি পরিষ্কারের জন্য হাসপাতালে নিতে চাইলে তিনি রাজি হননি।
পুলিশ সুপার বলেন, পরে আদালতে নেওয়ার সময় নাদিরা অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসা দেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়।
জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মাদকবিরোধী অভিযানে ইয়াবা বিক্রির ১৯ হাজার ৫৪০ টাকা ও তিনটি মোবাইল ফোনসহ নাদিরাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, নাদিরার মরদেহ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। পরে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তবে আদালত পুলিশের পরিদর্শক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, আদালতে আনার আগেই পথে ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি কোন মামলায় আসামি ছিলেন, তা তিনি জানেন না বলেও জানান।
এদিকে নাদিরার স্বামী এনামুল হক গাজী অভিযোগ করেছেন, তার স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, প্রায় ২০ বছর ইউপি সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সেলিম রেজার সঙ্গে তার জমি নিয়ে বিরোধের একটি মামলা রয়েছে।
এনামুলের দাবি, ওই মামলার পরোয়ানায় তাকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ দরজা-জানালা ভেঙে বাড়িতে প্রবেশ করে। তাকে না পেয়ে তার স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এ সময় ঘর থেকে গরু বিক্রির এক লাখ ১৯ হাজার ৫৫০ টাকা, সোনার চেইন, আংটি ও মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়া হয়।
এনামুল হক গাজীর অভিযোগ, সেলিম রেজার পক্ষ হয়ে পুলিশ তার স্ত্রীকে নির্যাতন করে হত্যা করেছে। এমনকি থানায় তাকে খাবার দিতেও দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। স্ত্রীকে হত্যার পর তাকে থানায় ডেকে নেওয়া হয় এবং কোনো ধরনের আইনি পদক্ষেপ না নিতে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন এনামুল। এ ঘটনায় মামলা করার কথা জানিয়েছেন তিনি।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে বাকেরগঞ্জ থানার ওসি আদিল হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।