বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • র‌্যাব বিলুপ্তি চেয়েছিলাম, নাম বদলে একই বাহিনী চাইনি: শফিকুর রহমান ইউরোপে বাংলাদেশিদের আবেদন বেড়েছে ১৩ শতাংশ হামের উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১১৬৫ হেবা আইনের সংশোধন বাতিলের দাবিতে শুক্রবার ইসলামী আন্দোলনের বিক্ষোভ গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করবে না সরকার: তথ্যমন্ত্রী শাহজালালে ৭ যাত্রীর ব্যাগে মিলল সাড়ে ৩৮ লিটার বিদেশি মদ গণমাধ্যম স্বাধীন না হলে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়: রিজভী ২৫ সেপ্টেম্বর শুরু হচ্ছে হামের দ্বিতীয় দফার বিশেষ টিকাদান প্রভিশন ঘাটতিতে ঝুঁকিতে ১৫ ব্যাংক, খেলাপি ঋণ ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে ‘মাননীয়’ বাদ, অনলাইন হাজিরায়ও নিয়ম মানছেন প্রধানমন্ত্রী
  • গণমাধ্যম স্বাধীন না হলে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়: রিজভী

    গণমাধ্যম স্বাধীন না হলে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়: রিজভী
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    গণতন্ত্রকে বিকশিত ও শক্তিশালী করতে এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করতে স্বাধীন গণমাধ্যমের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

    তিনি বলেন, গণমাধ্যম বস্তুনিষ্ঠভাবে সংবাদ পরিবেশন করলে সমাজে সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও ঘুষের প্রবণতা কমবে। এতে সমাজ আরও স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন হয়ে উঠবে।

    বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    রিজভী বলেন, গণতন্ত্র বিকশিত করতে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে গণমাধ্যমকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। প্রশাসন ও আদালতকে যেমন নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে হয়, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে গণমাধ্যমকেও একইভাবে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হয়।

    তিনি বলেন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতার সার্বজনীন অর্থ হলো সত্য প্রকাশ করা। যথাযথ যাচাই-বাছাইয়ের পর সত্যনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করতে হবে। সত্য তুলে ধরতে গিয়ে ঝুঁকি তৈরি হলেও সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়া উচিত নয়।

    গণমাধ্যমের অপব্যবহারের সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, অপপ্রচার কিংবা কারও বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কলঙ্ক ছড়ানো গণমাধ্যম ও গণতন্ত্রের প্রাণশক্তিকে দুর্বল করে। গণমাধ্যমের প্রধান দায়িত্ব হলো সত্যনিষ্ঠ ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ মানুষের সামনে তুলে ধরা।

    গত ১৭ বছরের গণমাধ্যম পরিস্থিতির সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ওই সময়ে দেশে অনেক টেলিভিশন ও সংবাদপত্র থাকলেও মতপ্রকাশের সুযোগ সীমিত ছিল। তার অভিযোগ, নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও রাজনৈতিক দলের বাইরে ভিন্নমত প্রকাশকারীরা ভয়ভীতি ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। টকশো, উপস্থাপক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিভিন্নভাবে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

    রিজভী বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও মাঠপর্যায়ের অনেক সাংবাদিক গণতন্ত্রের পক্ষে তাদের দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের ভূমিকার কারণেই গণতন্ত্রের পরিসর পুরোপুরি সংকুচিত হয়ে যায়নি।

    এ সময় একটি টেলিভিশন টকশোর উদাহরণ দিয়ে রিজভী বলেন, একজন কৃষিবিজ্ঞানী গবেষণায় বেগুনে ক্যানসারের কিছু উপাদান থাকার তথ্য পেয়েছিলেন। গবেষণার বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে তাকে একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়। কিন্তু সেখানে তার গবেষণাকে সরকারবিরোধী কোনো উদ্দেশ্যের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

    রিজভীর অভিযোগ, হত্যা, খুন ও গুমের মতো বিভিন্ন ঘটনা ঘটলেও অনেক সময় সেসবের সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়নি। বরং সরকারের দেওয়া বক্তব্যকে সামনে রেখে সংবাদ তৈরি ও প্রচার করা হয়েছে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রচলিত সংবাদমাধ্যমে চিফ রিপোর্টার, নিউজ এডিটর ও সম্পাদকসহ একটি সম্পাদনা কাঠামো থাকে। সংবাদ প্রকাশের আগে তা যাচাই-বাছাই ও সম্পাদনার মধ্য দিয়ে যায়। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন সম্পাদকীয় কাঠামো না থাকায় যাচাই ছাড়া সত্য-মিথ্যা নানা তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

    সাংবাদিকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে রিজভী বলেন, কুৎসা, অপপ্রচার কিংবা ব্যক্তিগত বিষয়কে সংবাদ হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত নয়। কারও ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা পারিবারিক বিষয় সবসময় সংবাদ হতে পারে না।

    সংবাদ কী—এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, সাপের ব্যাঙ ধরা স্বাভাবিক ঘটনা; কিন্তু কোনো দিন যদি ব্যাঙ সাপকে ধরে, সেটিই ব্যতিক্রমী ঘটনা হিসেবে সংবাদ হতে পারে।

    সাংবাদিকদের পেশাগত ঝুঁকির কথা তুলে ধরে রিজভী বলেন, সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে অনেক সাংবাদিক আহত হয়েছেন, কেউ পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, আবার কেউ প্রাণও হারিয়েছেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা এই পেশাকে আরও মর্যাদাপূর্ণ করে তুলতে হবে।

    ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সঙ্গে নিজের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, রাজনৈতিক প্রতিকূলতার সময়ে সংগঠনটি বিরোধী মত প্রকাশকারীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হিসেবে কাজ করেছে। সংকটের সময়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

    রিজভী বলেন, ফ্যাসিবাদী আক্রমণের সময় মতপ্রকাশের সুযোগ ও পরিসর ক্রমেই সংকুচিত হয়েছিল। যারা ভিন্নমত প্রকাশ করতে চেয়েছেন, তাদের অনেকেরই কথা বলার জায়গা ছিল না। সে সময় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি কিছুটা হলেও সেই সুযোগ তৈরি করেছিল।

    ডিআরইউর ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সাংবাদিকদের শুভেচ্ছা জানিয়ে রিজভী বলেন, গণতন্ত্রকে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে এগিয়ে নিতে গণমাধ্যমকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম ছাড়া গণতন্ত্র শক্তিশালী করা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

    অনুষ্ঠানে ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব এবং জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ও পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন