শেয়ারবাজারে বড় দরপতন, বিমা খাতে সবচেয়ে বেশি চাপ

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার (২৩ আগস্ট) দেশের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন হয়েছে। দিনের লেনদেনে প্রায় সব খাতেই বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের দাম কমেছে। তবে সবচেয়ে বেশি চাপ দেখা গেছে বিমা খাতে। এর প্রভাবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক ৬৩ পয়েন্ট কমেছে।
দিনের শুরুতে বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা থাকলেও দুপুর ১২টার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। একের পর এক বিমা কোম্পানির শেয়ারের দাম কমতে শুরু করলে তার প্রভাব পড়ে অন্যান্য খাতেও। লেনদেনের সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দরপতনের পরিধিও বাড়তে থাকে।
দিন শেষে ডিএসইতে ৩২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৩২৪টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩০টির দাম।
বিমা খাতে পরিস্থিতি ছিল আরও নেতিবাচক। খাতটির মাত্র দুটি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৫৫টি কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে এবং একটি কোম্পানির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ কিংবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১২টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১৭০টির দাম কমেছে এবং ১৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া কোম্পানির মধ্যে সাতটির দাম বেড়েছে, ৬৫টির কমেছে এবং দুটি অপরিবর্তিত রয়েছে।
এদিকে ‘জেড’ গ্রুপের ১৩টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৮৯টির দাম কমেছে এবং ১৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে চারটির ইউনিটের দাম বেড়েছে, ২৩টির কমেছে এবং সাতটির অপরিবর্তিত রয়েছে।
কমেছে ডিএসইর সব প্রধান সূচক
বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৬৩ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৭২২ পয়েন্টে নেমে এসেছে।
অন্যদিকে, ডিএসই-৩০ সূচক ১৭ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৪৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে। শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানিগুলো নিয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ সূচকও ১৫ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৪০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
সূচকের বড় পতনের মধ্যেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। দিন শেষে বাজারটিতে ৭১১ কোটি ১৪ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৬৭১ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক কার্যদিবসের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে ৩৯ কোটি ১৬ লাখ টাকা।
শীর্ষ লেনদেনে শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ
ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে ছিল শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ। কোম্পানিটির ৩৬ কোটি ৫৪ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে।
দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা রানার অটোমোবাইলের ২৫ কোটি ৭১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আর ২৩ কোটি ১৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে ছিল ফার কেমিক্যালস।
লেনদেনের শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় আরও রয়েছে সায়হাম টেক্সটাইল, শিকদার ইন্স্যুরেন্স, বেক্সিমকো, লাভেলো আইসক্রিম, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, মালেক স্পিনিং ও আইপিডিসি ফাইন্যান্স।
সিএসইতেও দরপতন
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) একই ধরনের দরপতন দেখা গেছে। বাজারটির সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ৬১ পয়েন্ট কমেছে।
দিনের লেনদেনে অংশ নেওয়া ২১৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪৮টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১৪৯টির দাম কমেছে এবং ২১টির অপরিবর্তিত রয়েছে।
সিএসইতে দিন শেষে ৬ কোটি ৪৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা।