বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে গোপন নয়, প্রকাশ্য ব্যালটে ভোট: সিইসি হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪ শিশুর মৃত্যু পর্ন কনটেন্ট বিক্রির অভিযোগে ইনফ্লুয়েন্সার সুমাইয়া গ্রেপ্তার একনেকে অনুমোদিত হলো ৯ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকার ১০ প্রকল্প স্বামীর দাফনে অংশ নিতে ১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পাচ্ছেন দীপু মনি কলকাতায় নিহত ৫ বাংলাদেশির মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করছে সরকার শর্ত নয়, সমতার ভিত্তিতে সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব: রিজভী বিশ্ববাজারে হালাল শিল্পের বড় সম্ভাবনা দেখছেন তথ্যমন্ত্রী সরকারি ব্যাংকে আমানত কতটা নিরাপদ, ৬ মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৬ হাজার কোটি
  • স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি জোরদার ইসির

    স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি জোরদার ইসির
    ছবি : সংগৃহীত
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি জোরদার করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। চলতি অর্থবছরের মধ্যেই ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও জেলা পরিষদের নির্বাচন ধাপে ধাপে আয়োজনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে আগামী ডিসেম্বর থেকে ভোট শুরু করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে ভোটের চূড়ান্ত সময়সূচি এখনো নির্ধারণ হয়নি।

    স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন নির্বাচন না হওয়ায় স্থানীয় সরকারের পাঁচ ধরনের প্রতিষ্ঠানকে পর্যায়ক্রমে ভোটের আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ জন্য সম্ভাব্য ব্যয় ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির বিষয়টি সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলেও জানানো হয়েছে। অর্থ বিভাগের অনুমোদন ও অর্থ ছাড়ের পর নির্বাচনের সময়সূচি চূড়ান্ত করা হবে।

    সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, শীতকালকে ভোটের জন্য উপযুক্ত সময় বিবেচনা করে ডিসেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার প্রস্তুতি চলছে। তবে ডিসেম্বরকে এখনো চূড়ান্ত সময় হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি।

    ইসি ও সরকারের উচ্চপর্যায়ের সূত্র অনুযায়ী, স্থানীয় সরকারের পাঁচ প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন আয়োজন করতে সম্ভাব্য ব্যয় হতে পারে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা। অর্থ বিভাগের অনুমোদনের পর অর্থ ছাড় হলে কোন নির্বাচন আগে হবে এবং কখন ভোট নেওয়া হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    ইসির প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রায় ২ হাজার ৯০০ কোটি টাকা, উপজেলা পরিষদে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা, সিটি করপোরেশনে প্রায় ৩৩০ কোটি এবং পৌরসভা নির্বাচনে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। জেলা পরিষদ নির্বাচনের ব্যয় যুক্ত হলে মোট খরচ প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে।

    ইসি জানিয়েছে, বর্তমানে নির্বাচন উপযোগী রয়েছে ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ, ৩৩০টি পৌরসভা, ১৩টি সিটি করপোরেশন ও ৬১টি জেলা পরিষদ।

    স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দ্রুত একটি সমন্বয় সেল গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। সিইসির সঙ্গে বৈঠক শেষে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির জানান, সমন্বয় সেল গঠনসহ নির্বাচনকেন্দ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

    সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, দ্রুতই সমন্বয় সেল গঠন করা হবে। এতে সশস্ত্র বাহিনীসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি এবং নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিরা থাকবেন।

    তিনি জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের অন্যান্য প্রস্তুতিও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

    স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সরকার। সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রের ভাষ্য, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক প্রভাব বা কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ রাখা হবে না।

    এদিকে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দলীয় নেতাকর্মীদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য আগেভাগে প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকে তিনি জনগণের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে নির্বাচিত হওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।

    সরকারের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, চেয়ারম্যান ও মেয়র পদে এবার দলীয় প্রতীক ব্যবহার করা হবে না। দলীয়ভাবে কোনো প্রার্থী দেওয়ার সুযোগও থাকবে না বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

    সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতির পাশাপাশি সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তও গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রকৃত অর্থেই নির্দলীয় হওয়া উচিত এবং সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

    তবে নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ মনে করেন, ২০১৫ সালের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইনগতভাবে নির্দলীয় থাকলেও বাস্তবে দলীয় সমর্থন ও প্রভাব পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব হয়নি। এবারও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোটের পক্ষ থেকে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।

    স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, চলতি অর্থবছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকার বিভাগের পাঁচ ধরনের প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্য রয়েছে। এ জন্য প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার বাজেট ধরা হয়েছে।

    তিনি বলেন, নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে নির্বাচন কমিশনকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অর্থ বিভাগের অনুমোদন ও অর্থ ছাড়ের পর নির্বাচন শুরুর সময় নির্ধারণ করা হবে।

    প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, সরকার দ্রুত সময়ের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করতে চায়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরে নির্বাচন কমিশনের জন্য প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রয়েছে। এর মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ছাড়াও কমিশনের অন্যান্য নির্বাচনী কার্যক্রম ও প্রশাসনিক ব্যয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

    সব মিলিয়ে অর্থ বরাদ্দ, আইনশৃঙ্খলা প্রস্তুতি ও নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার ওপর নির্ভর করছে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের চূড়ান্ত সময়সূচি। ডিসেম্বর থেকে ভোট শুরু হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও কোন প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন দিয়ে কার্যক্রম শুরু হবে, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    আরও পড়ুন