বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • স্পেনে দুই দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষ, নিহত ৪৬, ১৭৯ জন আহত নারী ও শিশুর সুরক্ষায় ইউনিসেফের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় সরকার ইসরায়েলে সরকার গঠনে আরব দলগুলোর সমর্থন চান বিরোধী নেতা গোলান ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের জিডিপি ছাড়াবে ১ ট্রিলিয়ন ডলার: প্রধানমন্ত্রী ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনের ওপর নির্ভর করছে স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ: জামায়াত ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে নিরাপত্তায় এসআরবি-১৩-এর বিশেষ প্রস্তুতি নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর আশা সরকারের রোগীদের যাতায়াতের ভোগান্তি কমাতে অ্যাম্বুলেন্স পুল গড়বে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছেলেকে বাঁচাতে নিজের কিডনি দিতে প্রস্তুত মা, অর্থাভাবে অনিশ্চিত রাকিবের জীবন ফেসবুক লাইভে বিএনপি সরকার নিয়ে মন্তব্য, জামিন পেলেন সেই সাথী আক্তার
  • স্বাধীনতার স্বপ্ন আর বাস্তবতা নিয়ে আক্ষেপ পরান বন্দ্যোপাধ্যায়ের

    স্বাধীনতার স্বপ্ন আর বাস্তবতা নিয়ে আক্ষেপ পরান বন্দ্যোপাধ্যায়ের
    ছবি : সংগৃহীত
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    স্বাধীনতা শুধু একটি ভূখণ্ডের রাজনৈতিক মুক্তির নাম নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের নিরাপদে বেঁচে থাকা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সমঅধিকার, মানবিক মর্যাদা এবং আনন্দের সঙ্গে জীবনযাপনের সুযোগ। স্বাধীনতার এত বছর পরও সেই কাঙ্ক্ষিত পরিবেশ পুরোপুরি তৈরি হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিনেতা পরান বন্দ্যোপাধ্যায়।

    স্বাধীনতার স্মৃতি ও শৈশবের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি মনে করেন, একটি সত্যিকারের স্বাধীন দেশে মানুষ জাতি, ধর্ম ও রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে পরস্পরের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে মিশবে। সেখানে মানবিকতা ও মনুষ্যত্বই হবে সবচেয়ে বড় পরিচয়।

    শৈশবের চোখে স্বাধীনতার আনন্দ

    ১৯৪৪ সালে কলকাতায় আসেন পরান বন্দ্যোপাধ্যায়। তখন তিনি একেবারেই শিশু। দমদম এলাকায় বেড়ে ওঠার সময়ই তিনি দেখেছেন স্বাধীনতার আগের উত্তাল সময়। ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হওয়ার সময় বয়স কম থাকায় বিষয়টির গভীরতা তখন বুঝতে পারেননি। পরে ধীরে ধীরে ইতিহাস জানতে শুরু করেন।

    শৈশবে স্বাধীনতা দিবসের আয়োজন ছিল তাঁর কাছে অত্যন্ত আনন্দের। এলাকার জিমন্যাস্টিক ক্লাবে সাদা পোশাক পরে যেতেন। বাজত ব্যান্ড, দেশাত্মবোধক গান, উঠত তেরঙা পতাকা। স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ছবি সাজিয়ে তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হতো। শিশুদের দেওয়া হতো লজেন্স ও বিস্কুট।

    সেই আয়োজন ছিল খুবই সাধারণ, কিন্তু আনন্দের ছিল গভীর। দেশ স্বাধীন হয়েছে—এই অনুভূতিই তখন শিশু পরানের কাছে ছিল সবচেয়ে বড় উৎসব।

    ইতিহাস জানার সঙ্গে বদলেছে উপলব্ধি

    কৈশোরে পৌঁছানোর পর স্বাধীনতার ইতিহাস সম্পর্কে তাঁর ধারণা আরও গভীর হয়। জানতে পারেন ব্রিটিশ শাসনের বিস্তার, স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মত্যাগ, চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন ও প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের মতো বিপ্লবীদের কথা।

    পরবর্তী সময়ে জাতির জনকের ভূমিকা ও তাঁর হত্যার ঘটনাও জানতে পারেন। ইতিহাস যতই পড়েছেন, ততই স্বাধীনতার অর্থ নিয়ে তাঁর মনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। কোনটা সঠিক, কোনটা ভুল—তা বোঝার চেষ্টা করেছেন তিনি।

    ‘আমরা কি সত্যিই স্বাধীন?’

    পরান বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, সময়ের সঙ্গে স্বাধীনতা সম্পর্কে তাঁর উপলব্ধিও বদলেছে। একসময় যে স্বাধীনতাকে কেবল উৎসব ও আনন্দের বিষয় হিসেবে দেখতেন, বয়স বাড়ার পর সেখানে নানা অপূর্ণতা চোখে পড়েছে।

    তাঁর প্রশ্ন, স্বাধীনতার এত বছর পরও কেন মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা, বিভাজন ও অশান্তি থাকবে? কেন মানুষ নিজের দেশেই কখনও কখনও নিজেকে পরাধীন মনে করবে?

    তিনি মনে করেন, স্বাধীনতার প্রকৃত সুফল মানুষের জীবনে অর্থনৈতিক স্বাচ্ছন্দ্য, সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা, পারস্পরিক যোগাযোগ, খেলাধুলা এবং মুক্ত পরিবেশের মাধ্যমে প্রতিফলিত হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবতার সঙ্গে সেই প্রত্যাশার এখনও অনেক ফারাক রয়েছে।

    ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ

    গণতন্ত্র ও সংবিধানের প্রসঙ্গ টেনে অভিনেতা বলেন, জনগণ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেন মানুষের সেবা করার জন্য। কিন্তু অনেক সময় ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিরা নিজেদের এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত করেন, যেন ক্ষমতা তাদের স্থায়ী অধিকার।

    তাঁর ভাষায়, ক্ষমতার সঙ্গে লোভ ও মিথ্যাচার যুক্ত হলে একসময় মানুষের সহ্যের সীমা অতিক্রম করে। তখন স্বাভাবিকভাবেই মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।

    পরান বন্দ্যোপাধ্যায় মনে করেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সমালোচনা করার অধিকার মানুষের রয়েছে। তবে অনেক সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়ার আশঙ্কায় সবসময় নিজেদের মত প্রকাশ করতে পারেন না। এটিও এক ধরনের স্বাধীনতার সংকট বলে মনে করেন তিনি।

    রাজনীতির অপব্যবহার নয়, প্রয়োজন সঠিক চর্চা

    তাঁর মতে, রাজনীতি নিজে কোনো নেতিবাচক বিষয় নয়। বরং সঠিক রাজনীতি মানুষের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু যখন রাজনীতির অপব্যবহার হয় এবং সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্র অতিরিক্ত রাজনৈতিক প্রভাবের মধ্যে চলে যায়, তখন মানুষের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয়।

    স্বাধীনতা দিবসের মতো উৎসবও যেন সবার জন্য সমান আনন্দের না থেকে কোনো কোনো ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে—এমন আক্ষেপও রয়েছে তাঁর কথায়।

    কেমন স্বাধীন দেশ চান পরান?

    পরান বন্দ্যোপাধ্যায়ের কল্পনায় স্বাধীন দেশ এমন একটি জায়গা, যেখানে একজন মানুষ ভয় বা সংকোচ ছাড়াই স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে পারবেন। যেখানে সবাই পরস্পরের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলবেন।

    জাতি, ধর্ম কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ের বিভাজন সেখানে মানুষের মানবিক পরিচয়কে ছাপিয়ে যাবে না। সবাই সমান মর্যাদা নিয়ে বাঁচবে এবং উৎসব হবে সবার।

    তাঁর মতে, এমন একটি সুন্দর ও মানবিক পরিবেশ তৈরি হলে স্বাধীন দেশের নাগরিক হওয়ার বিষয়টি আলাদা করে প্রমাণ করার প্রয়োজনই হবে না। মানুষের জীবনযাপন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতাই তখন স্বাধীনতার সবচেয়ে বড় পরিচয় হয়ে উঠবে।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন