সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
Natun Kagoj

বিশ্ব বাণিজ্যের পথ মালাক্কায় টোল বসাতে চায় ইন্দোনেশিয়া

বিশ্ব বাণিজ্যের পথ মালাক্কায় টোল বসাতে চায় ইন্দোনেশিয়া
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো সম্প্রতি মন্ত্রিসভার এক টেলিভিশন সম্প্রচারিত বৈঠকে বিশ্ব বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক প্রণালিগুলোর ভূমিকাকে সামনে আনেন। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি অনেক দেশের অর্থনীতি ও জ্বালানি দামের ওপর প্রভাব ফেলে এবং এর নিয়ন্ত্রণ একটি দেশের হাতে। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, পূর্ব এশিয়ার প্রায় ৭০ শতাংশ জ্বালানি চাহিদা ও বাণিজ্য ইন্দোনেশিয়ার প্রণালিগুলোর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হলেও সেটির গুরুত্ব যথাযথভাবে বিবেচিত হচ্ছে কি না।

৮ এপ্রিলের ওই বৈঠকের পর ২২ এপ্রিল এক অবকাঠামো বিনিয়োগ সম্মেলনে দেশটির অর্থমন্ত্রী পুরবায়া ইউধি সাদেওয়া মালাক্কা প্রণালি প্রসঙ্গে বলেন, বর্তমানে জাহাজগুলো কোনো ধরনের ফি ছাড়াই এ পথ ব্যবহার করছে। তিনি এ বিষয়ে অনিশ্চয়তা প্রকাশ করে উল্লেখ করেন, ইরান ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে ফি আদায় শুরু করেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, মালাক্কা প্রণালিতেও যদি এমন ব্যবস্থা চালু করা যেত, তবে তা বিবেচনার দাবি রাখে।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রাবোওর দেওয়া পরিসংখ্যান পুরোপুরি নির্ভুল না হলেও ইন্দোনেশিয়ার কৌশলগত অবস্থান নিয়ে তার বক্তব্য যথার্থ। দ্য ইকোনমিস্টের একটি মডেলিং বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মালাক্কা প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্ব সমুদ্রপথে বাণিজ্যের প্রায় ২১ শতাংশকে বিকল্প পথে যেতে হবে, এতে জাহাজগুলোর গড় যাত্রাপথ প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার বেড়ে যাবে।

এছাড়া ইন্দোনেশিয়ার সুন্দা, লোমবোক ও মাকাসার প্রণালিসহ সব গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক সমুদ্র বাণিজ্যের প্রায় ২৬ শতাংশ প্রভাবিত হবে এবং জাহাজগুলোকে গড়ে ৭ হাজার ৮০০ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ পাড়ি দিতে হবে।

মালাক্কা প্রণালিতে টোল আরোপের প্রস্তাব নতুন নয়। ২০০০ দশকের মাঝামাঝি সময়ে জলদস্যুতা বেড়ে গেলে ইন্দোনেশিয়া নিরাপত্তা জোরদারে জাহাজের কাছ থেকে ফি নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে সিঙ্গাপুরের বিরোধিতার মুখে সেই উদ্যোগ থেকে সরে আসে দেশটি। পরবর্তীতে ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড যৌথ টহল জোরদার করলে জলদস্যুতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপ নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, শক্তিশালী নৌবাহিনী ছাড়াও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ জলপথে প্রভাব বিস্তার সম্ভব—ইরানের কৌশল তারই উদাহরণ।

এ প্রেক্ষাপটে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া স্পষ্ট করে দিয়েছে, মালাক্কা প্রণালিতে কোনো একতরফা সিদ্ধান্ত গ্রহণ গ্রহণযোগ্য হবে না। সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণন বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে এ প্রণালিতে অবাধ চলাচলের অধিকার সবার জন্য নিশ্চিত এবং টোল আরোপ বা পথ বন্ধের কোনো উদ্যোগে তারা অংশ নেবে না।

এর জবাবে ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুগিওনো ২৩ এপ্রিল বলেন, দেশটি প্রণালিগুলো উন্মুক্ত রাখবে এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনেই চলবে। তিনি জানান, জাতিসংঘের সমুদ্র আইন অনুযায়ী ইন্দোনেশিয়া তার জলসীমার স্বীকৃতির বিনিময়ে প্রণালিগুলো দিয়ে নির্দোষ যাতায়াতের অধিকার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, বিশ্ব যখন ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক আইনের ওপর নির্ভরতা কমাচ্ছে, তখন এ ধরনের আলোচনা ভবিষ্যতে মালাক্কা প্রণালিতে টোল আরোপের বিষয়টি আবারও সামনে নিয়ে আসতে পারে।


দৈএনকে/জে, আ
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন