ঘরোয়া চিকিৎসায় কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি সম্ভব

বর্তমান সময়ে অনিয়মিত জীবনযাপন এবং প্রক্রিয়াজাত খাবারের আধিক্যের কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য বা কনস্টিপেশন একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী এই সমস্যা কেবল অস্বস্তিই তৈরি করে না, বরং শরীরের অভ্যন্তরীণ পরিপাকতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমকেও ব্যাহত করে। চিকিৎসকদের মতে, এই সমস্যা দূর করার সবচেয়ে কার্যকর ও টেকসই উপায় হলো প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত উচ্চ আঁশযুক্ত বা ‘হাই-ফাইবার’ (High-fiber) খাবার রাখা। বাংলাদেশে সহজেই পাওয়া যায় এমন কিছু প্রাকৃতিক খাবার অন্ত্রের গতিশীলতা বৃদ্ধি করে কোষ্ঠকাঠিন্য নির্মূলে জাদুর মতো কাজ করতে পারে।
শস্যজাতীয় খাবারের শক্তি
সাদা চাল বা আটার পরিবর্তে লাল চাল (Brown Rice) এবং লাল আটা (Whole Wheat Flour) ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদরা। এতে থাকা অদ্রবণীয় ফাইবার মল নরম করতে সাহায্য করে। এছাড়া ওটসের (Oats) বিটা-গ্লুকান নামক দ্রবণীয় ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে সহজতর করে।
ফলমূল: প্রকৃতির সেরা ল্যাক্সেটিভ
ফলমূলের মধ্যে পাকা পেঁপে কোষ্ঠকাঠিন্যের মহৌষধ হিসেবে পরিচিত। এর ‘প্যাপেইন’ এনজাইম প্রোটিন হজমে সহায়তা করে। এছাড়া বেলের শরবত অন্ত্র পরিষ্কার করার জন্য ঐতিহাসিকভাবে স্বীকৃত। আপেলের খোসায় থাকা ‘পেকটিন’ এবং নাশপাতির ‘সরবিটল’ উপাদান অন্ত্রে পানি টেনে এনে মলত্যাগ প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখে। নিয়মিত পাকা কলা খাওয়াও হজম প্রক্রিয়ার জন্য অত্যন্ত উপকারী।
সবজির গুণাগুণ
শাকসবজির মধ্যে পালং শাক ম্যাগনেসিয়ামের চমৎকার উৎস, যা অন্ত্রের সংকোচন-প্রসারণ বৃদ্ধি করে। লাল শাক, মিষ্টি আলু এবং ঢেঁড়সের পিচ্ছিল উপাদান (Mucilage) মলত্যাগ প্রক্রিয়াকে মসৃণ ও সহজ করে তোলে। এছাড়া ব্রকলি বা ফুলকপি অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়া বা মাইক্রোবায়োম উন্নত করতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
ডাল ও বীজজাতীয় খাবার
দ্রুত কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে ‘ইসবগুলের ভুষি’ একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় বাল্ক-ফর্মিং ল্যাক্সেটিভ। পাশাপাশি খোসাসহ মুগ ডাল, ছোলা এবং তিসি বা চিয়া সিড খাদ্যতালিকায় রাখলে কোলনের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। এগুলো পানিতে ভিজিয়ে খেলে অন্ত্রে পিচ্ছিল ভাব তৈরি হয় যা কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে সহায়ক।
বিশেষ সতর্কতা ও পরামর্শ:
পুষ্টিবিদদের মতে, ফাইবার যুক্ত খাবার খাওয়ার পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা অপরিহার্য। কারণ, শরীরে পর্যাপ্ত পানি না থাকলে উচ্চ আঁশযুক্ত খাবার হিতে বিপরীত হয়ে কোষ্ঠকাঠিন্য আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই সুস্থ থাকতে উচ্চ আঁশযুক্ত খাবারের পাশাপাশি নিয়মিত পর্যাপ্ত পানি পানের অভ্যাস গড়ে তুলুন।
দৈএনকে/জে, আ