মৌলভীবাজারে বিয়ের প্রলোভনে প্রতারণা, অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

মৌলভীবাজারে বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক নারীকে দীর্ঘদীন স্ত্রী হিসেবে রাখে এবং পরবর্তীতে প্রতারণা করে লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে মো.আলিক নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী মৌলভীবাজার জেলা লিগ্যাল এইড অফিসসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না বলে দাবি করেছেন।
প্রাপ্ত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, মো.আলিক ও রুহেলা বেগম (৩০) দীর্ঘদিন ধরে সিলেটের ওসমানীনগর গরুর বাজার সংলগ্ন এলাকা এবং মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ৭নং চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের গুজারাই খসরু মিয়ার বাসাসহ বিভিন্ন স্থানে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস করে আসছিলেন। ভুক্তভোগী নারীর ভাষ্যমতে, বিয়ের কাবিননামা সম্পন্ন করার কথা বলে আলিক তাকে আশ্বস্ত করলেও এখন পর্যন্ত তা করতে তাল-বাহানা করে কালক্ষেপন করছেন।
ভুক্তভোগী নারী জানান, ৫ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে তাকে ঘরে তোলার আশ্বাস দিয়ে আলিক বিভিন্ন সময়ে তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। এতে ওই নারী গর্ভবতী হয়ে পড়েন এবং আলিকের চাপে একাধিকবার গর্ভপাত করাতে বাধ্য হন। সর্বশেষ গর্ভপাতের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, আলিক তাকে এবং তার মাকে অন্ধ বিশ্বাসের সুযোগে নগদ প্রায় ৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ভুক্তভোগীর দাবি, "আমরা বেদেজাত, মানুষকে বিশ্বাস করি। সেই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে সে আমার জীবন ও অর্থ দুটোই শেষ করে দিয়েছে।"
ভুক্তভোগী নারীর দেওয়া তথ্যের সত্যতা স্বীকার করেছেন সিলেট ও মৌলভীবাজারের সংশ্লিষ্ট এলাকার একাধিক বাসিন্দা। ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে অভিযুক্ত মো.আলিকের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফোনেও তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
বর্তমানে ভুক্তভোগী নারী এই প্রতারণার সুষ্ঠু বিচার এবং তার পাওনা টাকা ফেরতের দাবিতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।