এসএমএস ও ভয়েস কলেই জারি হবে সমন: সংসদে আইনমন্ত্রী

পাহাড়সম মামলার জটে থমকে আছে দেশের বিচারব্যবস্থা। বর্তমানে দেশের অধস্তন আদালতগুলোতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৪০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে এই উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান জানান, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট ৪০ লাখ ৪১ হাজার ৯২৪টি মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ছিল।
ফৌজদারি কার্যবিধি আইন (সংশোধন) ২০২৬-এর কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত করতে এখন থেকে এসএমএস ও ভয়েস কলের মাধ্যমে সমন জারির বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া হলফনামার মাধ্যমে আরজি ও লিখিত জবাব দাখিল এবং সরাসরি জেরা করার পদ্ধতি প্রবর্তন করা হয়েছে। মামলার জট কমাতে নতুন ৮৭১টি আদালত এবং বিপুল সংখ্যক বিচারকের পদ সৃজন করা হয়েছে।
বিগত সরকারের সমালোচনা করে আইনমন্ত্রী বলেন, আগে বিচারকদের বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে দলীয় আনুগত্যকে মুখ্য মানদণ্ড করা হয়েছিল। বর্তমান সরকার সেই পথ পরিহার করে সততা, দক্ষতা ও বিচারিক আচরণকে পদায়নের মূল মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করবে। এ ক্ষেত্রে আইন মন্ত্রণালয় কেবল সুপ্রিম কোর্টে সুপারিশ করবে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সুপ্রিম কোর্ট।
আইনমন্ত্রী আরও জানান, ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলের যেসব আইন বর্তমান প্রেক্ষাপটে অকার্যকর, সেগুলো চিহ্নিত করে সংশোধনের কাজ করছে আইন কমিশন। এছাড়া বিচারব্যবস্থাকে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল করতে ‘ই-জুডিশিয়ারি’ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দুটি জেলায় ই-ফ্যামিলি কোর্ট চালু রয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে সারাদেশে সম্প্রসারণ করা হবে।
হয়রানিমূলক মামলা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, মামলার এজাহারে অভিযুক্তের দলীয় পরিচয় থাকে না। ফলে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কতগুলো হয়রানিমূলক বা মিথ্যা মামলা হয়েছে, তার সঠিক পরিসংখ্যান সরকারের কাছে নেই।