সরকারি নিয়োগে আসছে বড় পরিবর্তন

বর্তমানে সরকারি চাকরির বিভিন্ন গ্রেডে ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি পদ শূন্য রয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী। এসব শূন্যপদ পূরণে সরকার স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। একইসঙ্গে বিসিএসসহ সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় মুখস্থ নির্ভরতা কমিয়ে ‘দক্ষতাভিত্তিক’ মূল্যায়ন পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে এই তথ্য উত্থাপন করা হয়। সরকার ও বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের পৃথক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী দেশে সরকারি শূন্যপদের সংখ্যা ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি। এর মধ্যে প্রথম শ্রেণিতে (১ম-৯ম গ্রেড) ৬৮,৮৮৪টি, দ্বিতীয় শ্রেণিতে (১০ম-১২তম গ্রেড) ১,২৯,১৬৬টি, ১৩তম থেকে ১৬তম গ্রেডে ১,৪৬,৭৯৯টি এবং ১৭তম থেকে ২০তম গ্রেডে ১,১৫,২৩৫টি পদ শূন্য রয়েছে। এসব পদ পূরণে ৬ মাস, ১ বছর ও ৫ বছর মেয়াদি বিশেষ রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে।
নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও আধুনিক করার লক্ষে বিসিএস পরীক্ষায় বড় পরিবর্তনের আভাস দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, বিসিএসে মুখস্থ নির্ভর সিলেবাস পরিবর্তন করে বিভিন্ন দেশের আদলে দক্ষতাভিত্তিক পরীক্ষা নেওয়ার কাজ চলছে। এছাড়া মৌখিক পরীক্ষায় প্রার্থীর মনোভাব যাচাইয়ে ‘যোগ্যতা-ভিত্তিক সাক্ষাৎকার’ এবং এক বছরের মধ্যে একটি বিসিএস প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সংসদে জানানো হয়, মেরিটোক্রেসির বাংলাদেশ বিনির্মাণে বর্তমানে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে ৯৩ শতাংশ নিয়োগ মেধা ভিত্তিতে হচ্ছে। বাকি ৭ শতাংশ কোটার মধ্যে ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা, ১ শতাংশ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী এবং ১ শতাংশ শারীরিক প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষিত।
এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, বিগত ১৬ বছরে প্রশাসনে ব্যাপক ওএসডি ও বরখাস্তের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া গত সরকারের আমলে নিয়োগে যে ধরনের দুর্নীতি ও দলীয়করণের অভিযোগ উঠেছে, বর্তমানে দুদক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেগুলোর তদন্ত করছে। স্বচ্ছতার সঙ্গে ৫ লাখ জনবল নিয়োগের বিষয়টি তদারকি করতে সব মন্ত্রণালয়কে ইতোমধ্যে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।