লো-ফিডে উৎপাদন অব্যাহত ইস্টার্ন রিফাইনারিতে

কাঁচামালের ঘাটতির কারণে দেশের একমাত্র জ্বালানি তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি বন্ধ হয়ে গেছে—এমন খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলেও সরকার জানিয়েছে, শোধনাগারটি এখনও সীমিত উৎপাদনে (লো-ফিডে) চালু রয়েছে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী।
তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মার্চ ২০২৬-এর নির্ধারিত অপরিশোধিত তেলের চালান সময়মতো পৌঁছাতে না পারায় বর্তমানে ইস্টার্ন রিফাইনারি লো-ফিডে চালু রাখা হয়েছে। তবে জ্বালানি সরবরাহে কোনো ঘাটতি না রাখতে সরকার নিয়মিত আমদানির পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকেও পরিশোধিত জ্বালানি তেল সংগ্রহ করছে।
তিনি আরও জানান, দেশের জ্বালানি সরবরাহে ইস্টার্ন রিফাইনারির অবদান সীমিত। মোট ডিজেলের প্রায় ১৫ শতাংশ এবং পেট্রলের ১১ শতাংশ এখান থেকে সরবরাহ করা হয়। তাই রিফাইনারি সীমিতভাবে চালু থাকলেও সার্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়বে না।
বর্তমানে রিফাইনারির মোট চারটি ইউনিটের মধ্যে দুটি রক্ষণাবেক্ষণে রয়েছে এবং বাকি দুটি ইউনিট সীমিত উৎপাদনে চালু আছে।
ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, ইস্টার্ন রিফাইনারি মূলত সৌদি আরবের অ্যারাবিয়ান লাইট ক্রুড এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারবান ক্রুড অয়েল আমদানি করে পরিশোধন করে। বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন জ্বালানি তেল সরবরাহের মাধ্যমে দেশের মোট চাহিদার একটি অংশ পূরণ করে থাকে।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে ডিজেল বিক্রি হয়েছে প্রায় ৪৭ লাখ ৪২ হাজার টন, যার মধ্যে ইস্টার্ন রিফাইনারির সরবরাহ ছিল ৭ লাখ ৩২ হাজার ২৩০ টন। একই সময়ে পেট্রল বিক্রি হয়েছে ৪ লাখ ৮৯ হাজার টন, যার মধ্যে রিফাইনারির সরবরাহ ছিল প্রায় ৫৮ হাজার ৩০৯ টন।
ব্রিফিংয়ে বলা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় মার্চ ও এপ্রিল মাসের নির্ধারিত প্রায় ৩ লাখ টন অপরিশোধিত তেল আমদানিতে বাধা সৃষ্টি হয়েছে। একটি কার্গো লোড সম্পন্ন হলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে তা গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেনি এবং বর্তমানে বন্দরে অবস্থান করছে।
সরকার জানিয়েছে, এপ্রিল মাসের একটি চালান বিকল্প রুট ব্যবহার করে মে মাসের শুরুতে দেশে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি মে মাসে অতিরিক্ত তেল আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং জরুরি চাহিদা পূরণে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে অপরিশোধিত তেল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে সরকার আশ্বস্ত করেছে, চলমান পরিস্থিতিতেও দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।