ক্যানসার চিহ্নিত হওয়ার আগে শরীর কীভাবে ইঙ্গিত দেয়?

ক্যানসার এমন একটি রোগ, যা আমাদের শরীরের যেকোনও অঙ্গে শুরু হতে পারে। সাধারণত শরীরের কোষগুলো একটি নির্দিষ্ট নিয়মে জন্মায়, কাজ করে এবং নির্দিষ্ট সময়ের পর নষ্ট হয়ে যায়। তবে ডিএনএ-তে কোনো পরিবর্তন ঘটলে কোষগুলো নিয়ন্ত্রণ হারায় এবং অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকে। এভাবেই ক্যানসার সৃষ্টি হয়।
সবচেয়ে সাধারণ ক্যানসার ও ঝুঁকিপূর্ণ অঙ্গগুলো
- ফুসফুস: ধূমপান, পরোক্ষ ধূমপান এবং বায়ুদূষণ ফুসফুসের কোষকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই ফুসফুস ক্যানসার বিশ্বজুড়ে অন্যতম সাধারণ ক্যানসার।
- স্তন: মহিলাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় স্তন ক্যানসার। পুরুষরাও এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন, যদিও সংখ্যা কম।
- কোলন বা বৃহদান্ত্র: অস্বাস্থ্যকর খাবার, কম শারীরিক পরিশ্রম এবং অতিরিক্ত ওজন কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।
- লিভার: হেপাটাইটিস বি বা সি ভাইরাস, অতিরিক্ত মদ্যপান এবং ফ্যাটি লিভার লিভার ক্যানসারের কারণ হতে পারে।
- ত্বক: দীর্ঘ সময় রোদে থাকা বা অতিরিক্ত আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মির সংস্পর্শে ত্বকের ক্যানসার হতে পারে।
শুরুতে লক্ষণ নাও দেখা দিতে পারে
অনেক সময় ক্যানসার শুরুতে কোনও লক্ষণ দেখায় না। এটি ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। তাই শরীরের ছোটখাটো পরিবর্তনকেও গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
সাধারণ সতর্কতার লক্ষণ:
- হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া
- দীর্ঘদিন ক্লান্তি থাকা
- শরীরের কোথাও অস্বাভাবিক গাঁট বা ফোলা
- দীর্ঘদিন কাশি বা গলা ব্যথা
- মল বা প্রস্রাবে রক্ত
- ক্ষত যা সহজে শুকায় না
এ লক্ষণগুলো থাকলেই ক্যানসার হয়েছে এমন নয়। তবে সমস্যা দীর্ঘদিন থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
ক্যানসারের ঝুঁকি কমানোর উপায়
- নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা
- সুষম ও পুষ্টিকর খাবার
- ধূমপান এড়িয়ে চলা
- নিয়মিত ব্যায়াম
ক্যানসার যত তাড়াতাড়ি ধরা পড়ে, চিকিৎসা তত সফল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তাই শরীরের সংকেতকে কখনো অবহেলা করবেন না।
সচেতনতা এবং সময়মতো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ক্যানসারের মতো ভয়ানক রোগ থেকে আপনার জীবন বাঁচাতে পারে।
দৈএনকে/জে, আ