উচ্চরক্তচাপের রোগীদের জন্য রোজা: জীবনযাত্রায় আনবে ইতিবাচক পরিবর্তন

বর্তমান সময়ে উচ্চরক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেশার এক নীরব ঘাতক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে জীবনধারায় পরিবর্তন আনা এবং সঠিকভাবে রোজা রাখার মাধ্যমে চিকিৎসা ছাড়া এটিকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব, জানাচ্ছে আধুনিক বিজ্ঞান। চিকিৎসকেরা মনে করছেন, বছরে এক মাস নিয়মিত রোজা রাখা হৃদযন্ত্রের জন্য এক অসাধারণ উপহার হতে পারে।
রোজার সময় দীর্ঘক্ষণ খাবার না খাওয়ার কারণে মানবশরীরের সিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেম কিছুটা শিথিল হয়। এর ফলে রক্তনালীগুলো বিশ্রাম পায় এবং প্রসারিত হওয়ার সুযোগ পায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোজা রাখলে শরীর থেকে অতিরিক্ত লবণ ও পানি বের হয়, যা সরাসরি রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে।
বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় অভুক্ত থাকলে শরীরে ইনসুলিনের মাত্রা কমে আসে। ইনসুলিন কমলে কিডনি অতিরিক্ত সোডিয়াম বের করতে সক্ষম হয়। ফলে হৃদপিণ্ডকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয় না এবং রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকে। পাশাপাশি রোজা শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমাতে সহায়ক, যা উচ্চরক্তচাপের ঝুঁকি কমানোর অন্যতম প্রধান শর্ত।
তবে রোজার সুফল পেতে ইফতার ও সেহরির খাবারে সচেতনতা অপরিহার্য। ইফতারে অতিরিক্ত লবণযুক্ত বা চর্বিযুক্ত খাবার, ভাজাপোড়া, অতিরিক্ত চা-কফি পান করলে রোজার স্বাস্থ্যগত সুবিধা কমে যেতে পারে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইফতারে পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার যেমন কলা বা খেজুর রাখা উচিত।
সারসংক্ষেপে, সঠিকভাবে রোজা পালন করলে উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য হয়, হৃদযন্ত্র সুস্থ থাকে এবং অতিরিক্ত ওজন কমানো সম্ভব। স্বাস্থ্যকর ইফতার ও সেহরির অভ্যাস নিশ্চিত করলে রোজার সুফল আরও বাড়ে।