ডায়াবেটিস রোগীরা ইনসুলিন নিলে কি রোজা নষ্ট হয়?

রমজান মাসে রোজা পালন করা প্রত্যেক সুস্থ ও প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের জন্য ফরজ ইবাদত। তবে অসুস্থতা বা চিকিৎসাজনিত কারণে অনেক সময় ইনজেকশন নেওয়া, ইনসুলিন ব্যবহার করা কিংবা রক্ত পরীক্ষা করার প্রয়োজন পড়ে। তখন অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে—এসব চিকিৎসা গ্রহণ করলে রোজা ভেঙে যাবে কি না।
ইসলামি ফিকহ ও সমসাময়িক আলেমদের গবেষণায় এ বিষয়ে স্পষ্ট কিছু দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়।
রোজা অবস্থায় ইনজেকশন নেওয়ার বিধান
ইসলামি ফকিহদের অধিকাংশের মতে, রোজা অবস্থায় ইনজেকশন নিলে রোজা নষ্ট হয় না। ইনজেকশন সাধারণত মাংসপেশি বা শিরার মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে এবং তা মুখ বা নাকের মতো স্বাভাবিক প্রবেশপথ দিয়ে পাকস্থলীতে পৌঁছায় না।
তাই শুধুমাত্র চিকিৎসার উদ্দেশ্যে দেওয়া ইনজেকশন গ্রহণ করলে রোজা ভঙ্গ হবে না।
তবে এমন ইনজেকশন বা স্যালাইন দেওয়া ঠিক নয়, যা সরাসরি শরীরকে খাদ্যশক্তি বা পুষ্টি সরবরাহ করে। যেমন—গ্লুকোজ বা শক্তিবর্ধক স্যালাইন। এগুলো শরীরে খাদ্যের বিকল্প হিসেবে কাজ করে, তাই রোজার অবস্থায় এগুলো গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
ডায়াবেটিস রোগীদের ইনসুলিন নেওয়ার বিধান
ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য ইনসুলিন অনেক সময় জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা। শরিয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে ইনসুলিন গ্রহণ করলে রোজা ভঙ্গ হয় না।
কারণ ইনসুলিন ইনজেকশনের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে এবং এটি খাদ্য বা পানীয় হিসেবে বিবেচিত হয় না। এছাড়া এটি পাকস্থলীতেও পৌঁছায় না। ফলে রোজা নষ্ট হওয়ার কোনো কারণ সৃষ্টি হয় না।
তবে রোগের অবস্থা গুরুতর হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রোজা রাখা বা না রাখার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।
রোজা অবস্থায় রক্ত নেওয়া ও সুগার পরীক্ষা
ডায়াবেটিস রোগীরা নিয়মিত আঙুল থেকে সামান্য রক্ত নিয়ে সুগার পরীক্ষা করেন। ফিকহবিদদের মতে, পরীক্ষার উদ্দেশ্যে শরীর থেকে অল্প পরিমাণ রক্ত বের করলে রোজার কোনো ক্ষতি হয় না।
এটি চিকিৎসাজনিত প্রয়োজন এবং এতে শরীরে কোনো খাদ্য বা পানীয় প্রবেশ করে না। তাই রোজা অবস্থায় রক্ত পরীক্ষা করা জায়েজ এবং এতে রোজা ভঙ্গ হয় না।
সচেতনতার প্রয়োজন
রমজান মাসে অসুস্থ ব্যক্তিদের চিকিৎসা গ্রহণের ক্ষেত্রে ইসলাম সহজতা প্রদান করেছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করা যেমন জরুরি, তেমনি শরিয়তের বিধান সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।
সন্দেহ বা জটিল পরিস্থিতিতে অভিজ্ঞ আলেম বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে উত্তম।