উদ্বেগে জামায়াত আমির, যুক্তরাষ্ট্রের নাম এড়িয়ে বিবৃতি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা ও সংঘাতের বিস্তার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন Shafiqur Rahman। রোববার রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা এ উদ্বেগ জানান।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানে সামরিক হামলা এবং এর পরবর্তী সময়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা সংঘাতকে বিপজ্জনক পর্যায়ে নিয়ে গেছে। এতে সমগ্র অঞ্চল অস্থিতিশীল হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তিনি জাতীয় সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন, বেসামরিক মানুষের জীবন বিপন্ন করা এবং আঞ্চলিক শান্তি বিনষ্টকারী যেকোনো হামলার দ্ব্যর্থহীন নিন্দা জানান। একই সঙ্গে অঞ্চলে ইসরায়েলের অস্থিতিশীলতামূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এসব পদক্ষেপ উত্তেজনা বৃদ্ধি করছে, সংলাপের পথ রুদ্ধ করছে এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে দুর্বল করছে। এ ধরনের আচরণ পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে এবং বিরোধের ন্যায্য ও আলোচনাভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনা ক্ষুণ্ন করছে।
একইসঙ্গে উপসাগরীয় ও আঞ্চলিক দেশগুলোর বিরুদ্ধে ইরানের পাল্টা হামলাকেও তিনি অকার্যকর ও পরিস্থিতি অবনতিকারী বলে উল্লেখ করেন। এ ধরনের সামরিক পদক্ষেপ অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত বলেও মত দেন তিনি।
বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক আইন উপেক্ষা করে জাতীয় নেতা ও রাষ্ট্রপ্রধানদের লক্ষ্য করে হত্যার প্রবণতা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বৈশ্বিক নীতিমালাকে দুর্বল করে এবং অঞ্চলকে দীর্ঘস্থায়ী বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
তিনি সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে সামরিক তৎপরতা বন্ধ করে সংলাপ ও কূটনীতির পথে ফেরার জোর দাবি জানান। তার মতে, টেকসই সমাধানের একমাত্র কার্যকর পথ হলো আলোচনাভিত্তিক কূটনৈতিক উদ্যোগ।
একইসঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত বা সফররত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি জরুরি ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি। পূর্ণাঙ্গ কনস্যুলার সহায়তা ও প্রয়োজনীয় সুরক্ষা নিশ্চিত করাকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
সংকটময় এ সময়ে রক্তপাত বন্ধ এবং আঞ্চলিক শান্তি রক্ষায় ঐক্য, প্রজ্ঞা ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানান জামায়াত আমির।