পায়ে ব্যথা, গাঁট ফোলা? হতে পারে ইউরিক অ্যাসিডের কারণে

আজকাল অনেকেই হঠাৎ হঠাৎ পায়ে ব্যথা, গাঁটে টান বা ফুলে যাওয়া নিয়ে চিন্তিত থাকেন। ডাক্তারের কাছে গেলে প্রায়ই শোনা যায়, “ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে গেছে।” তবে ইউরিক অ্যাসিড আসলে কী, এবং এর ঝুঁকি কতটা?
ডাক্তাররা বলছেন, ইউরিক অ্যাসিড হলো শরীরের কোষ ভাঙা ও খাবারের প্রোটিন, বিশেষ করে ‘পুরিন’-যুক্ত উপাদানের বিপাকের একটি উপজাত। সাধারণত রক্তে এটি থাকে এবং কিডনির মাধ্যমে প্রস্রাবের সঙ্গে বেরিয়ে যায়। কিন্তু শরীরে অতিরিক্ত জমে গেলে নানা সমস্যা দেখা দেয়।
ইউরিক অ্যাসিড বাড়লে যে সমস্যাগুলো হতে পারে:
-
গাউট বা গেঁটেব্যথা:
সবচেয়ে সাধারণ সমস্যা। পায়ের বুড়ো আঙুলে হঠাৎ তীব্র ব্যথা, লালচে ভাব বা ফোলা দেখা দিতে পারে। কখনও হাঁটু, গোড়ালি বা কবজি আক্রান্ত হতে পারে। -
গাঁটে জটিলতা:
বারবার ইউরিক অ্যাসিড বাড়লে গাঁটের হাড় ক্ষয় হতে পারে। চলাফেরায় অসুবিধা, দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা হতে পারে। -
কিডনিতে পাথর:
অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিড কিডনিতে জমে পাথর তৈরি করতে পারে। এতে প্রস্রাবে জ্বালা, পিঠে ব্যথা এবং কিডনি ফেইলিওরের ঝুঁকি থাকে। -
শরীরে ক্লান্তি ও ভার:
হালকা জ্বর বা ক্লান্তিভাব দেখা দিতে পারে, যা অনেকেই উপেক্ষা করেন।
কেন বাড়ে ইউরিক অ্যাসিড?
-
মাংস, অর্গান মিট (কলিজা, ভুঁড়ি), চিংড়ি, ইলিশ ইত্যাদি বেশি খেলে
-
অতিরিক্ত মদ্যপান
-
পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া (ডিহাইড্রেশন)
-
স্থূলতা বা ওবেসিটি
-
রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের জন্য কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
পরামর্শ:
-
প্রচুর পানি পান করুন
-
মাশরুম, কলিজা, চিংড়ি ইত্যাদি পরিমিত খান
-
নিয়মিত ব্যায়াম করুন
-
প্রোটিন ও সুগারযুক্ত খাবার নিয়ন্ত্রণে রাখুন
-
প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ সেবন করুন
বিশেষজ্ঞরা বলেন, নিজের শরীরের প্রতি যত্নবান হওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ব্যথাকে অবহেলা না করে সময়মতো পরীক্ষা করলেই ইউরিক অ্যাসিডজনিত বড় ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।
দৈএনকে/জে, আ