আধ্যাত্মিকতার সঙ্গে সুস্থতা: বিজ্ঞান বলছে নামাজও এক অনন্য শরীরচর্চা

ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হলো নামাজ। একজন মুমিনের জন্য এটি কেবল একটি ধর্মীয় ইবাদত নয়, বরং আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান ও ফিজিওথেরাপিস্টদের মতে, নামাজের প্রতিটি রুকন বা অঙ্গভঙ্গি শরীরের জন্য এক চমৎকার ব্যায়াম বা শরীরচর্চা। দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের মাধ্যমে একজন মানুষ যেমন আধ্যাত্মিকভাবে পরিশুদ্ধ হন, তেমনি শারীরিকভাবেও নানাবিধ উপকার লাভ করেন।
প্রতিটি ভঙ্গিমায় লুকিয়ে আছে আরোগ্য
চিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষণায় দেখা গেছে, নামাজের বিভিন্ন ধাপ শরীরের নির্দিষ্ট কিছু পেশি ও হাড়ের সংযোগস্থলের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে:
- কিয়াম (দাঁড়ানো): নামাজে সোজা হয়ে দাঁড়ানোর ফলে শরীরের ওজন দুই পায়ের ওপর সমানভাবে পড়ে। এটি মেরুদণ্ডকে সোজা রাখতে এবং শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
- রুকু (নত হওয়া): রুকু করার সময় পিঠ ও মেরুদণ্ড সমান্তরাল থাকে। এটি কোমর ও পিঠের পেশিকে নমনীয় করে এবং রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে। বিশেষ করে যাদের পিঠ বা কোমরের ব্যথা আছে, তাদের জন্য এটি চমৎকার স্ট্রেচিং।
- সেজদা (মস্তক অবনত করা): নামাজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সেজদা। সেজদার সময় মানুষের মস্তিষ্ক হৃৎপিণ্ডের নিচে অবস্থান করে, ফলে মাথায় প্রচুর রক্ত সঞ্চালন হয়। এটি মানসিক চাপ কমায়, স্মৃতিশক্তি বাড়ায় এবং স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত রাখে।
- তাশাহহুদ (বসা): দুই সিজদার মাঝে বা শেষে বসার ভঙ্গিটি পায়ের হাড় ও পেশির জন্য বিশেষ উপকারী। এটি থাই ও হাঁটুর জয়েন্টকে মজবুত করে এবং হজম প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে সহায়তা করে।
হৃদরোগ ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা
আমেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় উঠে এসেছে যে, নিয়মিত নামাজ আদায় করলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমে। নামাজের সময় যে ধীরস্থির গতিবিধি এবং গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া হয়, তা যোগব্যায়াম বা মেডিটেশনের চেয়েও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে।
মনোদৈহিক প্রশান্তি
নামাজ কেবল পেশি নয়, মনেরও ব্যায়াম। একনিষ্ঠভাবে নামাজ পড়লে মস্তিষ্কে ‘আলফা ওয়েভ’ তৈরি হয়, যা মানুষকে চরম দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দেয়। একে বলা হয় ‘আধ্যাত্মিক ফিজিওথেরাপি’।
একজন মুসলিম হিসেবে সালাত আদায়ের মূল উদ্দেশ্য আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। তবে মহান আল্লাহ তাঁর ইবাদতের মাঝেও যে মানুষের জন্য প্রভূত শারীরিক কল্যাণ রেখেছেন, তা আধুনিক বিজ্ঞান বারবার প্রমাণ করছে। নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়কারী ব্যক্তি তাই অনিচ্ছাসত্ত্বেও এক ধরণের পূর্ণাঙ্গ শারীরিক ও মানসিক কসরতের মধ্য দিয়ে যান, যা তাকে দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।
দৈএনকে/জে, আ