নিয়মিত দ্রুত হাঁটা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী

মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি বর্তমান বিশ্বের অন্যতম প্রধান উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিনের খুব সাধারণ একটি অভ্যাস— 'দ্রুত হাঁটা' বা Brisk Walking—হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার বিষণ্নতা কাটাতে জাদুকরী ভূমিকা পালন করতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, কেবল শারীরিক সুস্থতা নয়, মনের মেঘ কাটাতেও হাঁটার বিকল্প নেই।
যখন মানুষ দ্রুত হাঁটে, তখন শরীরে এন্ডোরফিন ও সেরোটোনিন-এর মতো 'ফিল গুড' বা আনন্দদায়ক হরমোনের নিঃসরণ বাড়ে। এই রাসায়নিক উপাদানগুলো প্রাকৃতিকভাবেই মেজাজ বা মুড উন্নত করতে সরাসরি কাজ করে। নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তা কেবল স্ট্রেস কমায় না, বরং ঘুমের মান উন্নত করে আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতেও সহায়তা করে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বিশেষজ্ঞদের অভিমত
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং আমেরিকান সাইকিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশন মানসিকভাবে সুস্থ থাকার জন্য নিয়মিত ব্যায়ামের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী:
- সপ্তাহে অন্তত কয়েক দিন ২০-৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটা মানসিক প্রশান্তি আনে।
- এটি বিষণ্নতার প্রাথমিক উপসর্গগুলো দমনে অত্যন্ত কার্যকর।
সতর্কতা ও পরিপূরক চিকিৎসা
তবে গবেষকরা একটি বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক করেছেন। বিষণ্নতা একটি জটিল মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা। তাই হাঁটা বা ব্যায়াম কখনোই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের বিকল্প হতে পারে না। এটি মূলত চিকিৎসার একটি সহায়ক বা পরিপূরক পদ্ধতি হিসেবে কাজ করে।
"যদি বিষণ্নতার লক্ষণগুলো দীর্ঘস্থায়ী বা তীব্র হয়, তবে দেরি না করে দ্রুত মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। হাঁটা জীবনযাত্রার একটি ইতিবাচক অংশ হতে পারে, কিন্তু ওষুধের বিকল্প নয়।"
ছোট এই পদক্ষেপটি হতে পারে আপনার মানসিক সুস্থতার দীর্ঘ যাত্রার প্রথম ধাপ।
দৈএনকে/জে, আ